সিলেটের বিশ্বনাথে মাজারের পাশে বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনা আপোষে মীমাংসা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের হল রুমে দুই পক্ষের সাথে বৈঠকে বিষয়টির মিমাংসা হয়।
বৈঠকে মাজারে ওরস চলাকালে মাইক বাজানোতে নিষেধাজ্ঞা ও গান বাজানোতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা এসব তথ্য জানান।
এরআগে গত রোববার রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসরে হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দেয় একদল লোক। এসময় হামলাকারীরা গানের মঞ্চ ও সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করে এবং ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেয়।
এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বুধবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা বলেন, বিশ্বনাথে ঈদের পরদিন মাজারের ও মসজিদ সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। ২/৩ দিন ধরে মিডিয়াতে এ নিয়ে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। যতোটা প্রচার করা হয়েছে, অতোটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিলো না।
তিনি বলেন, দুদিন আমরা ঈদের কারণে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার কারণে সাথেসাথেই আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে কথা বলি। আজকে দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতায় বসেছিলাম। সবার সাথে আলাপ করে বুঝলাম এটি তেমন গুরুত্বরপূর্ণ কিছু না। বাইরের কিছু উশৃঙ্খল লোকজন এসে মাজারে ঝামেলা তৈরি করে, অসামাজিক কার্যকলাপ করে। এর সাথে মাজার কর্তৃপক্ষ জড়িত নয়। মসজিদেও তেমন কোন ভাঙচুর হয়নি। ইট পাটেকেলে ৩/৪ টি গ্লাস ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে, মসজিদের গ্লাস আমরা মেরামত করে দেবো। স্থানীয় চেয়ারম্যানরা এই দায়িত্ব নিয়েছেন।
মাজারের বিষয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই এমপি বলেন, মাজারে ওরস হলে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। অন্যকে ডিস্টার্ব করা যাবে না। তবে স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন। মাজারে মদ গাঁজাসহ অসামাজিক কার্যক্রম চলবে না। নারী পরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে যদি গান বাজনা হয় তবে গজল, পীর-মুর্শিদী গান, জিকির আসকার করা যাবে। অন্য গান করা যাবে না। তবে কোন স্টেজ করা যাবে না।
তিনি বলেন, বিশ্বনাথের সব মাজারের জন্য এসব নির্দেশনা কার্যকর হবে। স্থানীয় প্রশাসন সব মাজার কর্তৃপক্ষ এসব নির্দেশনা জানিয়ে দেবে।
সমঝোতা বৈঠকে বিশ্বনাথের ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি ও ওসি গাজী মাহবুবুর রহমানসহ দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে রোববারের ওই হামলার একটি ভিডিও সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, হামলাকারীরা ‘নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়। তাদের কয়েকজনের হাতে লাঠিসোটা ঠিলো। তারা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। মঞ্চে থাকা বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভেঙে ফেলে হামলাকারীরা। আচমকা আক্রমণে ভয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে পালিয়ে যান আয়োজক ও মাজার ভক্তরা।। এতে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পণ্ড হয়ে যায়। ভাঙচুর চালানোর পর হামলাকারীরা মিছিল করে অননুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত, দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও তিন দিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেন।
সূত্রঃ সিলেট টুডে
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.