আজ বুধবার | ০১ এপ্রিল ২০২৬

দখল-দূষণে বিলুপ্তির পথে স্রোতস্বিনী লোলা খাল, উদ্ধার ও খননের দাবি

দখল-দূষণে বিলুপ্তির পথে স্রোতস্বিনী লোলা খাল, উদ্ধার ও খননের দাবি

ছবিঃ সংগৃহীত


রিপোর্টঃ শহিদুল ইসলাম সাজু। কুশিয়ারা নদীর সাথে বরুরদল নদীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ খাল ’লোলা’ এখন দখল-দূষণে বিলীন হওয়ার পথে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ লোলা খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খননের দাবি তুলছেন প্রান্তিক জনপদের মানুষ। যদিও গত এক যুগে খালের সংযোগ স্থল থেকে এক কিলোমিটার অংশ দুইবার খনন করা হলেও সেটির সুফল পাননি কেউ। 


প্রভাবশালীদের চাপে বিগত সরকারের সময় খনন হলেও দখল মুক্ত না হওয়ায় খনন কাজের সুফল পাননি স্থানীয়রা। এর ফলে ভুক্তভোগী এলাকার চাষি ও মৎস্যজীবীদের দাবি, আংশিক নয়, খালের পুরো ১৪ কিলোমিটার অংশ একসাথে খনন করার। তারা জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি সাথে অতিরিক্ত পলি মাটি থাকায় ও খালে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই ভরাট হচ্ছে লোলা খাল। যার কারণে দুই দফা খনন কাজে সরকারের কোটি কোটি টাকা জলে গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

কুশিয়ারা ও বরুরদল নদীকে সংযুক্ত করা লোলা খাল উপজেলার পৌরসভাসহ আরো চার ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিয়ানীবাজার পৌরসভা, কুড়ারবাজার, মোল্লাপুর, লাউতা ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত এ খাল তিলপাড়া ইউনিয়নে বরুরদল নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এ খালের সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে মাথিউরা ইউনিয়নও। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লোলা খালের উপর নির্ভর বিয়ানীবাজার উপজেলার অধিকাংশ এলাকার জনবসতি।



জানাযায়, লোলা খাল অবৈধ দখল মুক্ত করতে গেলে প্রশাসনকে বিগত সময়ে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিগত সময়ে প্রভাবশালী দখলধারদের চাপে বার বার উচ্ছেদ অভিযান থমকে গিয়েছিলো। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি জমি আবাদে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একই সাথে শুষ্ক মৌসুমে বোরো আবাদসহ অন্যান্য ফসল আবাদে সেচের পানি অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।



সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দুই দফা লোলা খালের কুশিয়ারা নদীর উৎস মুখ থেকে এক কিলোমিটার খনন কাজ হলেও খাল দখল মুক্ত করা যায়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১০ সালে প্রথমবার এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফা খালের পাঁচশত মিটার করে এক কিলোমিটার খনন হলেও খাল অবৈধ দখল মুক্ত না হওয়ায় এ সুবিধা পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। উল্টো এক মৌসুম পরই খাল পুনরায় ভরাট হয়ে যায়। সে সময় খাল খননে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর কুড়ারবাজার বৈরাগীবাজারের সংযোগ স্থল ভরাট হয়ে গেছে। এ খালে এ যুগের মধ্যে দুইবার একই জায়গা খনন করা হলেও এর কোন অস্থিত্ব নেই। কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আরিজখাঁ টিলা, পৌরসভার শ্রীধরা, কসবা ও লাসাইতলা, মোল্লাপুর ইউনিয়নের নিদনপুর, লামা নিদনপুর, কুটুখালিপাড়সহ বেশ কিছু এলাকায় খাল দখল হয়ে সরু হয়ে গেছে। কোন স্থানে অস্থিত্ব বিলিনের পথে।



স্থানীয়রা জানান, স্রোতস্বিনী লোলাখালের প্রস্থ ছিল দেড়শত ফুটেরও বেশি। পানির তোড়ের কারণে এ খালে নৌকা চলাচলে বেগ পেতে হতো। এখন বর্ষাকালে খালে পানিই থাকে না। দখল দূষণে বিলীন হওয়ার পথে এক সময়ের স্রোতস্বিনী এ খালে বছরের অধিকাংশ সময় পানি না থাকায় চাষাবাদে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।


পৌরসভার লাসাইতলা এলাকার আলী আহমদ বলেন, ছোটবেলায় বাবা-চাচাদের সাথে বৈশাখ মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত খালের মাছ শিকার করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করতাম। গত কয়েক যুগ থেকে এখন খালে পানি নেই। তাই মাছও পাওয়া যায় না।



একই এলাকার আব্দুল করিম বলেন, লোলাখালের ভরাট হওয়ায় এর একটি শাখা বাবুর খাল দখল হয়েছে। যার কারণে আমাদের শত শত একর তিন ফসলি জমি বছরের বেশিরভাগ সময় অনাবাদি রয়েছে।


সিলেট পানি উন্নয়ন বোডের্র উপ-সহকারি প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোলাখাল খননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে। খালের অনেক জায়গায় এর প্রস্থ আগের চেয়ে এখন অনেক কম। খাল খনন হলে আপনা আপনি দখলমুক্ত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনও লোলাখাল খননের একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে।



বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, বিয়ানীবাজারে একটি খাল খনন হলে সেটি লোলাখালই হবে। এ অঞ্চলের জন্য এ খালের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা খালের ১৪ কিলোমিটার খননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, লোলাখাল দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরো খালের জনবসতি এলাকায় খালটি মারাত্মকভাবে দখল করা হয়েছে। এগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)