বিয়ানীবাজারে প্রবাসীদের জায়গা দখলের পায়তারা করছে একটি ভুমিখেকো চক্র। এলক্ষে তারা এলাকার সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে দখলীয় জমিতে স্টেডিয়াম নির্মাণ করবে বলেও প্রচার করছে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীদের পুকুররকম জমি দখলের পাঁয়তারা থেকে রক্ষা পেতে ভুমি মালিকগণ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেছেন।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপি নেতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. মঈন উদ্দিন মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া গাজির মোকাম এলাকায় প্রবাসীদের ভোগ-দখলীয় প্রায় দুই একর জায়গার ওপর আদালতে মামলা করেন। যেখানে বাদীর নিজের একটুও জমি নেই, সেখানে এমন মামলা করায় এলাকাবাসী বিস্মিত হন। এছাড়া তারা এখানে কোনোদিন স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠ ছিলনা বলেও দাবি করেন।
সূত্রমতে, ঘুঙ্গাদিয়া গাজির মোকাম এলাকায় প্রায় দুই একর জায়গা সরকারি শত্রু-সম্পত্তি ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এলাকার কয়েক পরিবার তা ভোগদখল করতেন। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে তাদের হিস্যা আবুল হোসেনের পরিবারকে সমজিয়ে দেন। এরপর সরকারি নিয়মানুযায়ী পুরো জায়গা তারা ভোগ করছেন। ভূমিটি আবুল হোসেনের পরিবারের দু'টি বাড়ির মধ্যখানে রয়েছে। তবে, বিভিন্ন সময়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট নির্মাণে এ জমি থেকে মাটি দেয়া হয়েছে। এমনকি গ্রামীণ জলাশয়ে যাতায়াতের রাস্তাও নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ জমিতে মাচ চাষ এবং পুকুরঘাট ব্যবহার করে পরিবারের লোকজন গোসলসহ প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পাদন করছেন।
জানা যায়, এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০১৪ সালে গ্রামীণ সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হয়। এ সময় অনেকের সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. মঈন উদ্দিনের বাড়ির দেয়াল কিঞ্চিত ভাঙ্গা হয়। কিন্তু সবাই মেনে নিলেও মঈন উদ্দিন বেকে বসেন। এর পুরো দায় তিনি কাজের উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবুল হোসেনের ওপর ন্যস্ত করে ফোনে হুমকি প্রদান করেন। এ নিয়ে তখন আইনী লড়াইও চলে।
সম্প্রতি দেশে ফিরেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. মঈন উদ্দিন। এলাকায় তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও তার কোন পদ-পদবি নেই। এরপরও কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে এলাকার মানুষকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করেছেন। সম্প্রতি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবী আবুল হোসেনের পরিবারের ভোগ করা জমিকে 'শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম' উল্লেখ করে তা উদ্ধারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেন। অথচ এ জমি মুক্ত জলাশয়, পারিবারিক পুকুর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের মতে, ব্যক্তিস্বার্থে সম্পূর্ণ ভূয়া ও ভিত্তিহীন স্থানে 'শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম' নাম ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এজন্য অনেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন। বিবদমান ভূমিতে বাদি মঈন উদ্দিনের বিন্দুমাত্র হিস্যা নেই।
আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন বিবদমান স্থান পরিদর্শন ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করছেন। শিগগির তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে অপর পক্ষের মঈন উদ্দিন জানান, এখানে শহীদ জিয়া স্ট্যাডিয়াম নির্মাণ করা হবে এজন্য জায়গাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুল বাসিত বলেন, মামলাধীন জমি আবুল হোসেনের পরিবারের ভোগ দখলে রয়েছে। এই জমির মালিকানা গ্রামের অন্য কারো আছে বলেও জানা নেই। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর বয়সে দেখিনি এখানে 'শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম' আছে কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে এমন কথা অতীতেও শুনিনি। তিনি ব্যক্তিস্বার্থে শহীদ জিয়ার নাম ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা বলেন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে শহীদ জিয়ার নাম ব্যবহার করা অনুচিত। ব্যক্তির ভোগ-দখলীয় একটি জলাশয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ করার কথা শুনলেও হাস্যকর লাগে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.