আজ বৃহস্পতিবার | ১৪ মে ২০২৬

 শিরোনাম
এবার ঢাকায় মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন বিয়ানীবাজারের সেলিম উদ্দিন বড়লেখায় ১২ বছরের শিশুকে বলাৎকার, মুদি দোকানদার আটক বড়লেখায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত, চালকসহ দুজন গ্রেপ্তার সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ সিলেটে জাল নোটের প্রতারক চক্র, বিপুল পরিমাণ জাল নোটসহ আটক ৪ জকিগঞ্জে প্রেম করে বাংলাদেশে এসে নিঃস্ব শ্রীলঙ্কান নারী, ২৪ বছর দেশে ফিরতে পারেননি জকিগঞ্জ- কানাইঘাট নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে মুফতি আবুল হাসান এমপি পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস বড়লেখায় এক কেজি গাঁজাসহ রবি দাস গ্রেপ্তার ‘ রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

জকিগঞ্জে প্রেম করে বাংলাদেশে এসে নিঃস্ব শ্রীলঙ্কান নারী, ২৪ বছর দেশে ফিরতে পারেননি

জকিগঞ্জে প্রেম করে বাংলাদেশে এসে নিঃস্ব শ্রীলঙ্কান নারী, ২৪ বছর দেশে ফিরতে পারেননি

প্রেমের টানে নিজ দেশ শ্রীলঙ্কা ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আজ দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন শ্রীলঙ্কান নারী লোনা ইস্পিয়া। অভিযোগ রয়েছে, জকিগঞ্জ উপজেলার নান্দিরস্ত্রী গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করে ২০০২ সালে বাংলাদেশে আসেন তিনি। কিন্তু সুখের আশায় গড়া সেই সংসার এখন পরিণত হয়েছে দুঃখ, অবহেলা ও মানবেতর জীবনের গল্পে।


ভুক্তভোগী লোনা ইস্পিয়ার অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানকালে হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার আশায় তিনি শ্রীলঙ্কায় থাকা তার পৈতৃক প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে বাংলাদেশে চলে আসেন। সেই অর্থ দিয়েই স্বামীর বাড়িতে পাকা দালান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলেও দাবি তার।


তবে সময়ের ব্যবধানে বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। লোনা ইস্পিয়ার দাবি, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে তার পাসপোর্ট স্বামী হেলাল মিয়া জব্দ করে রেখেছেন। এমনকি মায়ের মৃত্যুর খবর পেলেও তাকে শ্রীলঙ্কায় যেতে দেওয়া হয়নি। ফলে নিজ দেশে ফিরে আপনজনদের শেষবার দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।


তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেয়ের বয়স উপযুক্ত হওয়ার পর হেলাল মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করেন লোনা ইস্পিয়া। এরপর থেকেই তার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। বর্তমানে হেলাল মিয়া দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা সংসার করছেন এবং লোনা ইস্পিয়ার কোনো খোঁজখবর রাখেন না বলেও জানান তিনি।


সবচেয়ে করুণ বিষয় হলো, যে পাকা দালান ঘর তার অর্থে নির্মিত হয়েছে বলে দাবি, সেখানে বসবাসের সুযোগও নেই তার। বর্তমানে তিনি একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের ক্ষুদ্র সহযোগিতা এবং মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটছে তার।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এলাকাবাসীর মতে, ঘটনাটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, এটি মানবিক ও আইনি দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
লোনা ইস্পিয়া বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“ভালোবাসার টানে নিজের দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছিলাম। আজ আমি নিঃস্ব ও অসহায়। আমি আমার জীবনের সঠিক বিচার চাই।


ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, একজন বিদেশি নারীর সঙ্গে এমন আচরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)