ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আবারও মুখোমুখি ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা চাইছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিতে, আর ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছানো।
টুর্নামেন্টজুড়ে দুই দলই ছিল দারুণ ছন্দে। তাই ফাইনালের টিকিট নির্ধারণী এই লড়াইকে অনেকেই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে দেখছেন। ইতিহাস, তারকাসমৃদ্ধ দুই দল, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।
পরিসংখ্যান বলছে ইংল্যান্ড এগিয়ে
কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটার সামান্য এগিয়ে রাখছে ইংল্যান্ডকে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডের ৫২.৯ শতাংশ, আর আর্জেন্টিনার ৪৭.১ শতাংশ।
অবশ্য বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পায় অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য। তাই অপ্টার পূর্বাভাস মাঠের ফল নির্ধারণ করবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মেসি বনাম কেইন, আলোচনায় আরও অনেক তারকা
আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে আছেন লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে এনজো ফার্নান্দেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাঁধে।
ইংল্যান্ডের ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও অ্যান্থনি গর্ডন। চলতি বিশ্বকাপে কেইন ও বেলিংহাম দুজনই ছয়টি করে গোল করেছেন। একই বিশ্বকাপে একই দেশের দুই খেলোয়াড়ের ছয় বা তার বেশি গোল করার ঘটনা এটিই প্রথম।
তাই একদিকে থাকবে মেসির অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা, অন্যদিকে বেলিংহামের গতি, শক্তি ও তরুণ উদ্দীপনা।
দুই দলের আত্মবিশ্বাসই তুঙ্গে
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। পিছিয়ে পড়েও অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহামের জোড়া গোলে ২–১ ব্যবধানে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা। নাটকীয় সেই জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টেই ছিল ধারাবাহিক। এখন পর্যন্ত ১৭ গোল করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। আজ আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ ১৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এখনো কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা। সেই পরিসংখ্যানও মেসিদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সুযোগ তাদের সামনে।
ইতিহাসের পাতায় উত্তপ্ত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ মানেই ফুটবলের বাইরেও বাড়তি আবেগ।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ। দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'র ম্যাচে ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর ২০০২ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টির গোলে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের রাজনৈতিক ইতিহাসও। ফলে দুই দেশের লড়াই কখনোই শুধু ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জাতীয় আবেগ ও মর্যাদার প্রশ্ন।
নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
ম্যাচকে ঘিরে আটলান্টায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন, দুই দলের হোটেল ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য ও পাঁচ শতাধিক বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মী। প্রয়োজন হলে আরও জনবল মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অপেক্ষা শুধু শুরুর বাঁশির
এক পাশে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্য পাশে দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। মাঠে মেসি, কেইন, বেলিংহাম, আলভারেজদের তারকাখচিত লড়াই; গ্যালারিতে হাজারো সমর্থকের উন্মাদনা।
ফাইনালের পথে শেষ বাধা টপকাতে আজ নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেবে দুই দলই। শেষ পর্যন্ত নিউ জার্সির ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে—মেসির আর্জেন্টিনা, নাকি কেইনের ইংল্যান্ড—তার উত্তর মিলবে আজ রাতেই।
সূত্রঃ সিলেট ভয়েস
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.