আজ মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬

চোরাকারবারিদের বি রু দ্ধে কঠোর পদক্ষেপ সিলেটের প্রশাসনের

চোরাকারবারিদের বি রু দ্ধে কঠোর পদক্ষেপ সিলেটের প্রশাসনের

ছবিঃ এআই


সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তজুড়ে চোরাচালান ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য রোধে এবং তাদের তৎপরতা ঠেকাতে এবার একাট্টা হয়েছে প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে অভিযান, নজরদারি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সময় চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (২০ জুলাই) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত চোরাচালান প্রতিরোধ আঞ্চলিক টাস্কফোর্স ও বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনকে সীমান্তে নজরদারি জোরদার, নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য রুখে দিতে সমন্বিত সকল উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

 

এসময় বিভাগীয় কমিশনার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতেও আরও দায়িত্বশীলভাবে বিজিবিকে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবৈধ করাতকল বন্ধ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সালফারযুক্ত কয়লার চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, পাথর কোয়ারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিগগিরই নতুন ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এ ধরনের অপমৃত্যু রোধে সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে জুমার খুতবায় আত্মহত্যার কুফল ও বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি নিয়ে আলোচনা করতে ইমামদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

 

সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে-হাওর ও দুর্গম এলাকায় হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখা, কৃষিজমির ওপরিভাগের মাটি কাটা এবং অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সিলেট মহানগরের গৃহকর্মীদের ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করা।

 

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটি এবং চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সভায় সিলেটের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সীমান্তকে চোরাচালানমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

 

 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)