আজ শনিবার | ০১ আগস্ট ২০২৬

দরুদ শরিফ: দুশ্চিন্তা দূর, গুনাহ মাফ ও রহমত লাভের অনন্য আমল

দরুদ শরিফ: দুশ্চিন্তা দূর, গুনাহ মাফ ও রহমত লাভের অনন্য আমল

ছবিঃ সংগৃহীত


মুমিনের জীবনে এমন কিছু ইবাদত রয়েছে, যা অল্প আমলে অসীম সওয়াব, প্রশান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ এনে দেয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ সেই মহিমান্বিত আমলগুলোর অন্যতম। এটি শুধু নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশই নয়; বরং আল্লাহর রহমত লাভ, গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল এবং হৃদয়ের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর করারও একটি বরকতময় মাধ্যম। তাই একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

আল্লাহর নির্দেশ—নবীর প্রতি দরুদ পাঠ

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

 

 

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ পাঠ কর এবং পরিপূর্ণভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৫৬)

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য দরুদ পাঠকে একটি বিশেষ ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

একবার দরুদে দশটি রহমত

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، وَحُطَّتْ عَنْهُ عَشْرُ خَطِيئَاتٍ، وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ

‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করবেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং তার মর্যাদা দশ ধাপ বৃদ্ধি করবেন।’ (নাসাঈ ১২৯৭)

 

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অল্প একটি আমলের বিনিময়ে একজন বান্দা কত বড় প্রতিদান লাভ করতে পারে।

দুশ্চিন্তা দূর ও গুনাহ ক্ষমার মাধ্যম

সাহাবি হজরত উবাই ইবন কাব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি তার ইবাদতের কতটুকু সময় দরুদের জন্য নির্ধারণ করবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমি আমার পুরো সময়ই আপনার ওপর দরুদ পাঠে ব্যয় করি?’ তখন রাসুল (সা.) বলেন—

 

إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ

‘তাহলে তোমার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেওয়া হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি ২৪৫৭)

এ হাদিস প্রমাণ করে, দরুদ শরিফ অন্তরের অশান্তি ও উদ্বেগ দূর করার একটি বরকতময় আমল।

 

সূত্রঃ যুগান্তর 

 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)