ছবি: সংগৃহীত
জীবনের তীব্র ব্যস্ততা, তীব্র অসুস্থতা, চরম বিষণ্ণতা কিংবা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি—কোনো কিছুই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক ছিন্ন করার বৈধ অজুহাত হতে পারে না। পরিস্থিতি যাই হোক, কোনো অবস্থাই সালাত ছাড়ার অজুহাত নয়! নামাজ কেবল একটি নিয়মিত আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার মাঝে বেঁচে থাকার আত্মিক শক্তি এবং ইমানের সবচেয়ে মজবুত স্তম্ভ।
নামাজ সময়ের সঙ্গে বাঁধা এক আবশ্যিক কর্তব্য
পার্থিব জীবনের কোনো কাজ বা ব্যস্ততাই নামাজের ওয়াক্তকে উপেক্ষা করার কারণ হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি নামাজের সময় সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন—
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتً
নিশ্চয় নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনদের ওপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১০৩)
অসুস্থতা বা অপারগতায়ও নামাজ ছাড়ার সুযোগ নেই
ইসলাম সহজতার ধর্ম। নামাজকে কোনো অবস্থাতেই বাতিল করা হয়নি, বরং বান্দার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) বলেন, আমি নবি কারিম (সা.)-কে (অসুস্থ অবস্থায়) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন—
صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ
‘দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর। যদি তা না পার, তবে বসে পড়। আর যদি সেটাও না পার, তবে কাত হয়ে (পার্শ্বে শুয়ে) পড়।’ (বুখারি ১১১৭)
পরকালের প্রথম প্রশ্ন ও সফলতার মূল চাবিকাঠি
হাশরের ময়দানে আমাদের যাবতীয় আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজ ঠিক থাকলে বাকি সবকিছুই সহজ হয়ে যাবে—
إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ العَبْدُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ، فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ
‘কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয়, তবে সে সফলকাম ও কৃতকার্য হবে; আর যদি তা বিনষ্ট হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (তিরমিজি ৪১৩)
ইমান ও কুফরের মধ্যকার পার্থক্যকারী দেওয়াল
নামাজের গুরুত্ব এতটাই অপরিসীম যে রাসুলুল্লাহ (সা.) একে মুমিনের পরিচায়ক চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন—
إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلَاةِ
নিশ্চয় ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝে ব্যবধান হলো নামাজ বর্জন করা।’ (মুসলিম ৮২)
জীবনের পথচলায় ভালো সময় আসুক কিংবা খারাপ, আনন্দ থাকুক কিংবা কষ্ট— নামাজকে সবসময় নিজের জীবনের অপরিবর্তনীয় আশ্রয় বানিয়ে নেওয়া উচিত। দাঁড়ানোর শক্তি না থাকলে বসে পড়ুন, বসে না পারলে শুয়ে পড়ুন, কিন্তু রবের সঙ্গে কথোপকথন কোনো পরিস্থিতিতেই বন্ধ করবেন না। দুনিয়ার সবকিছু থেমে যেতে পারে, কিন্তু মুমিনের নামাজ কখনোই থামে না।
সূত্র: যুগান্তর
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.