ফাইল ছবি
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সিলেটের পর্যটন খাতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসার আশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এবার ঈদের ছুটিতে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন জানান, ইতোমধ্যে সিলেটের প্রায় ৮৫ শতাংশ আবাসিক হোটেল ও মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন, দেড় বছর ধরে দেশের নানা কারণে সিলেটের পর্যটন খাত জমে ওঠেনি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা আশা করছি, ঈদের সময় পর্যটনের সুবাতাস বইবে এবং বড় ধরনের ব্যবসা হবে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি কয়েক দিন বৃষ্টি হওয়ায় সিলেটের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো নতুন রূপে সেজে উঠেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরসহ বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ ও পাথরের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ।
এছাড়া উৎমা ছড়া, তুরুং ছড়া, জৈন্তাপুরের লালাখাল এবং পান্তুমাই ঝরনাও এখন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু এলাকায় বালু-পাথর লুটপাটের ঘটনা ঘটায় পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে পর্যটকদের আস্থা বাড়ছে।
স্থানীয় ট্যুর গাইড মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর পর্যটক কম থাকায় আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। তবে এবার ঈদের আগেই বুকিং ও যোগাযোগ বেড়েছে। আমরা আশা করছি, পর্যটকদের ভালো সেবা দিতে পারলে ভবিষ্যতেও তারা আবার আসবেন।
স্থানীয় হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত এবং ট্যুর অপারেটররা ইতোমধ্যে পর্যটকবরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা বলছেন, পর্যটকের চাপ সামাল দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার আশায় রয়েছেন তারা।
নগরের জিন্দাবাজার এলাকার হোটেল গোল্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক মিষ্ঠু দত্ত বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমাদের হোটেলের বেশিরভাগ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। প্রতি বছরই ঈদের সময় সিলেটে পর্যটকের চাপ থাকে, তবে এবার আগ্রহটা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা অতিথিদের ভালো সেবা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আশা করছি, এবার ব্যবসা সন্তোষজনক হবে।
সিলেটের পাহাড়, নদী, ঝরনা ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানের অপার সৌন্দর্য প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে দেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েক বছর প্রত্যাশিত পর্যটক আসেনি। তবে এবারের ঈদকে ঘিরে যে সাড়া দেখা যাচ্ছে, তাতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.