সিলেটের বিশ্বনাথে বাউল গানের আসরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ। হামার ঘটনাটি আপোষে মীমাংসা হয়ে গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত রোববার রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেয় একদল লোক। এসময় হালঅকারীরা ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন।
ওই গানের আসরে হামলার একটি ভিডিও সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, হামলাকারীরা ‘নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়। তাদের কয়েকজনের হাতে লাঠিসোটা ঠিলো। তারা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। মঞ্চে থাকা বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভেঙে ফেলে হামলাকারীরা। আচমকা আক্রমণে ভয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে পালিয়ে যান আয়োজক ও মাজার ভক্তরা।। এতে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পণ্ড হয়ে যায়। ভাঙচুর চালানোর পর হামলাকারীরা মিছিল করে অননুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত, দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও তিন দিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেন।
তবে এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি এবং আয়োজকরা মামলা করবেনও না বলে জানান বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনা মাজারের ভেতরে নয়, মাজারের মূল ভেন্যুর বাইরে গ্রামের পাশে তৈরি করা একটি মঞ্চে গানবাজনা হচ্ছিল। এতে স্থানীয় মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছিল, তারা এসে গান বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, কোনপক্ষই আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। গানের আয়োজকরাও মালা করবেন না বলে জানিয়েছেন।
ওসি বলেন, মাজার কিংবা ভেন্যুতে কিছু হয়নি, তাদের অনুষ্ঠান যেটা, সেটা চলছে। মূল ভেন্যুর বাইরের ঘটনা এটা। তবে উভয় পক্ষই নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। রাতে গান বাজিয়ে যেমন ঘুমের ব্যঘাত ঘটানো ঠিক হয়নি, তেমনি অপর পক্ষের গানবাজনা বন্ধ করাও ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছে। স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমাধান করে নেবে। এ জন্য তারিখও নির্ধারণ করেছে। ফলে কোনো পক্ষই মামলা-মোকদ্দমা করেনি।
ঘটনার পর মাজারের খাদেম দুদু মিয়া সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে মাজারকে ঘিরে ওরস অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এতে প্রতিবছরই সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা আসেন। রোববার রাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গ ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসে গানের আসরে হামলা চালান। হামলাকারীরা ঘটনার আগে কোনো অভিযোগ মাজার কর্তৃপক্ষকে করেননি। পরে হামলাকারীরা ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পরদিন ভোরে পাশের মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের এ ঘটনায় দোষারোপ করেন।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.