নিজের বুক চিরে খাবলে খুবলে পাওয়া গ্যাস চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড সোজা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অথচ বঞ্চিত রয়ে গেলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসী। বছরের পর বছর ধরে তারা আশার পথে চেয়ে আছেন। কিন্তু নিজেদের ব্যবহারের জন্য গ্যাস দেওয়া হয়নি তাদের। এবার জাতীয় সংসদে স্থানীয়দের এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। আর এতে জনগনের প্রত্যাশার পারদ দ্রুত বাড়ছে।
খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলা। দুটি উপজেলা থেকে গ্যাস উত্তোলন চলছে বহু বছর ধরে। এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে জোরালো দাবি থাকা সত্ত্বেও সিলেটের এ দুই উপজেলার মানুষ বঞ্চিত যুগ যুগ ধরে। কেবল আশার বাণী শোনানো হলেও ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবি কেবল দাবিই থেকে গেছে। তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হলেও কাজের কাজটি আর হয়ে উঠেনি।
প্রবল আন্দোলন-সংগ্রাম চলাকালে ১৯৯২ সালে গোলাপগঞ্জের এমসি একাডেমি মাঠে অনুষ্টিত বিশাল জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে।
এরপর বিয়ানীবাজার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের দু’ একটি গ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল বটে, কিন্তু তা আর সবার ঘরে ঘরে পৌঁছেনি। অজানা কারণে সেই প্রকল্পটিও মুখ থুবড়ে পড়েছিল।
এরপর আরও অনেকে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। কিন্তু গ্যাসের দাবি আর পূরণ হয়নি। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে এই আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ সেই ১৯৯৬ এর নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন। পরে ১০ বছর সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হলেও গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসীর গ্যাসের স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে গেছে।
প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণার অন্যতম প্রধান ইস্যু ‘ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে’ দেওয়া। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্যকেই এ ব্যাপারে তেমন একটা সোচ্চার হতে দেখা যায়না।
তবে এবার সংসদে প্রসঙ্গটি তুলে ধরেছেন সাংসদ এমরান আহমদ চৌধুরী। এ আসনের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে রবিবার দেওয়া তার প্রথম বক্তব্যেই জনগনের এই দাবিটি তুলে ধরেছেন।
আর তার এই ভূমিকায় এ আসনের মানুষ আবারও আশায় বুক বেঁধেছেন, আগে হয়নি তবে এবার হতেও পারে।
গোলাপগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন (৫৩) এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি দাবিটা তুলে ধরেছেন। তবে সেই দাবি বাস্তবায়নের জন্য আরও কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সিলেটের দুই মন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার অবসান সম্ভব।
বিয়ানীবাজারের একজন স্কুল শিক্ষক সাদেক আহমদ (৪২) বললেন, আমাদের হৃদয় খুঁড়ে উত্তোলন করা গ্যাস ব্যবহারের অধিকার থেকে যুগ যুগ ধরে আমাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। আমি আশাবাদী, এবার হবে। তবে জনগনকেও এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে হবে।
শুধু গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজারই নয়, সিলেটের জৈন্তাপুর এবং জকিগঞ্জেও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে। হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র সারাদেশে বিখ্যাত। অথচ এই উপজেলাগুলোরও ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছেনি এখনো।
যে এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায়, ওই এলাকার জনগনের ওই সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও সিলেটের ক্ষেত্রে চলে আসা এই বৈষম্যে হতাশা গ্রাস করলেও জনগন আশাবাদী, হয়ত এবার হতে পারে।
সূত্রঃ সিলেট ভিউ
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.