সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ১নং আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুর কোন দেখা মিলছে না গত ২৩ দিন ধরে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করছেন।
জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা বসতবাড়ি-কোথাও নেই তিনি। তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন অফিসের সচিব জহিরুল আলম দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে।
আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী আহবাবুর রহমান খান শিশু। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন সিলেট জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন।
জানা গেছে, বিগত ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা দায়ের রয়েছে। সেসময় থেকে কিছুটা আত্মগোপনে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। চলত বছরবে ১৮ মার্চ থেকে তিনি লাপাত্তা হন। তবে অনুমতি না নিয়ে তিনি কানাডায় পাড়ি জামিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মামলা থাকার পরও তিনি কিভাবে দেশ ছাড়লেন, তা নিয়েও রহস্য তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মামলা রয়েছে।
আলীনগর ইউনিয়নের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ আফতাবুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই আমাদের ইউনিয়নের একজন সদস্য মৃত্যুবরণ করায় পরিষদে শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এবার চেয়ারম্যান দেশ ত্যাগ করায় আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পরিষদে যাইনি। তবে শুনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মনিরুজ্জামান মনির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘কোন দপ্তরকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান কানাডায় চলে গেছেন। আপাতত তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তীতে পরিষদের সকলকে নিয়ে বসে সর্বসম্মতিক্রমে রেজ্যুলিউশন করে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে রেজ্যুলিউশনটি বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর দপ্তরে জমা দিয়ে তারই নির্দেশনায় তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে কাউকেই এখনো ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়নি উল্লেখ্য করে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ওই চেয়ারম্যানকে শোকজ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আপাতত কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে দেয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সেবা প্রদানে আপাতত দাপ্তরিক কাজ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সামলাবেন। অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়নি।’
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.