আজ বুধবার | ০৬ মে ২০২৬

অপরিপক্ব লিচুতে সয়লাব সিলেটের বাজার, চড়া দামে বিক্রি

অপরিপক্ব লিচুতে সয়লাব সিলেটের বাজার, চড়া দামে বিক্রি

মৌসুম শুরুর আগেই সিলেটের ফলের বাজারে লিচুর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে এই লিচুর বড় একটি অংশই অপরিপক্ব বা স্বাভাবিক সময়ের আগেই সংগ্রহ করা বলে দাবি ক্রেতাদের। অন্যদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য তারা আগেভাগেই বাগান কিনে রেখেছিলেন , যার পুরো টাকা মালিকদের এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তাই বাগান মালিকদের পাওনা মেটানোর চাপ ও অতি ঝড়-বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই তারা আগাম লিচু বাজারে তুলছেন। ফলে একদিকে যেমন বাজারে লিচুর সরবরাহ বেড়েছে, অন্যদিকে দাম ও গুণগত মান নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট ও বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকানে সবুজ ও হালকা লাল রঙের মিশ্রণে লিচু বিক্রি হচ্ছে। নতুন মৌসুমের ফল হিসেবে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও আকারে ছোট এসব লিচুর স্বাদ নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকেই। ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। একটু বড় আকারের হলে দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে।

 

আম্বরখানা এলাকায় লিচু বিক্রি করা রউস মিয়া বলেন, এখন যে লিচুগুলো বাজারে আছে সেগুলো পুরোপুরি মিষ্টি না, কিছুটা টক-মিষ্টি। আরও এক-দুই সপ্তাহ পর ভালো মানের লিচু পাওয়া যাবে।

 

বন্দরবাজারে ভ্যানে লিচু বিক্রি করা জামাল উদ্দিন বলেন, চাহিদা মোটামুটি ভালো। ১০০ লিচু ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। আরও কয়েকদিন পর রঙ ও স্বাদ ভালো লিচু আসবে। 

 

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া এবং সুনামগঞ্জের ছাতকের মানিকপুর এলাকা সুস্বাদু লিচুর জন্য বিখ্যাত।

 

বাগান চাষিরা জানান, শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল এলেও প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড় তুফানের কারণে অনেক লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। আর কিছু ফল ফেটে নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। এতে লোকসানের শঙ্কায় বাগানমালিকরা।

 

সুনামগঞ্জের ছাতকের মানিকপুর এলাকা লিচু চাষি উস্তার আলী বলেন, গাছে মুকুল ভালো ছিল, কিন্তু ঝড় বৃষ্টির কারণে অনেক লিচু ঝরে পরেছে। যেগুলো আছে সেগুলো এখনো পুরোপুরি পাকে নাই। কিছু আগাম জাতের লিচু বাজারে যাচ্ছে।

 

আম্বরখানা এলাকায় লিচু কিনতে আসা রোখসানা পারভীন বলেন, দোকানদার ভালো লিচু দেখালেও কিনে দেখি বেশিরভাগই কাঁচা। তবুও বাচ্চাদের জন্য কিনতে হল।

 

আরেক ক্রেতা ইলিয়াস হোসেন বলেন, বাচ্চারা লিচু পছন্দ করে, তাই কিনলাম। কিন্তু স্বাদ টক লাগছে। তার অভিযোগ, বিক্রেতারা পাকা লিচু দেখিয়ে অপরিপক্ব লিচু দিচ্ছেন।

 

সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান  বলেন, লিচু পুরোপুরি পরিপক্ব হতে আরও সময় লাগবে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, পরিপক্ব হওয়ার পরই যেন বাজারজাত করেন। সরবরাহ বাড়লে দামও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)