আজ শনিবার | ০৪ জুলাই ২০২৬

চরম নাটকীয়তা শেষে রোনালদো হাসলেন মদ্রিচ কাঁদলেন

চরম নাটকীয়তা শেষে রোনালদো হাসলেন মদ্রিচ কাঁদলেন

ছবিঃ সংগৃহীত


ফুটবল ইতিহাসে এমন নাটকীয় এবং শ্বাসরুদ্ধকর দ্বিতীয়ার্ধ শেষ কবে দেখা গিয়েছিল? পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এই প্রশ্ন জাগতেই পারে। একের পর এক আক্রমণ, পোস্ট ও সাইডনেটে বল লাগা, গোল বাতিল, পেনাল্টি এবং ম্যাচের একেবারে শেষ সেকেন্ডে ভিএআর নাটকের পর ক্রোয়েশিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল পর্তুগাল।

 

আর এই হার দিয়ে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হলো লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে। ম্যাচ শেষে যেখানে রোনালদোর মুখে ফুটল চওড়া হাসি, সেখানে চরম হতাশায় মাঠ ছাড়লেন রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর সাবেক সতীর্থ লুকা মদরিচ।

 

নকআউটের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইটি ছিল পর্তুগালের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ঠিক এক বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া জোতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং ম্যাচটিকে উৎসর্গ করেই আজ মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল দল।

 

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই রাফায়েল লিয়াওয়ের দুর্দান্ত পাস থেকে পরপর দুটি জোরালো শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে দুবারই অবিশ্বাস্য সেভে পর্তুগালকে গোলবঞ্চিত করেন ক্রোয়েশিয়ান দমিনিক লিভাকোভিচ। ফলে দাপট দেখিয়েও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল (০-০)।

 

তবে বিরতির পর মাঠ ফিরতেই খোলস ছেড়ে বের হয় ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে দ্রুত এক থ্রো-ইন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। ইয়োসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ।

 

পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া পর্তুগালের রাফায়েল লিয়াওয়ের একটি বাঁকানো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর ঠিক পরেই ৬০ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় তাঁর গোলটি বাতিল হয়।

 

তবে মহাতারকাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়ে, গোলরক্ষককে ভুল দিকে পাঠিয়ে একদম মাঝ বরাবর নিখুঁত শটে গোল করেন সিআরসেভেন। এটি বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে রোনালদোর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

 

৭৫ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের একটি জোরালো শট পর্তুগালের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে কোভাচিচ আবার শট নিলে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে অবিশ্বাস্য এক সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।

 

ম্যাচের ৮১ মিনিটে কিছুটা হতাশা নিয়েই রুবেন নেভেসের বদলে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। তখন ম্যাচ ১-১ সমতায়। ম্যাচের বয়স যখন ৯৪ মিনিট, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঁ প্রান্ত থেকে রাফায়েল লিয়াওয়ের বাড়ানো মাপা ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন বদলি নামা গনসালো রামোস। পর্তুগাল এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

 

যখন মনে হচ্ছিল পর্তুগালের জয় নিশ্চিত, তখনই উঁকি দেয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় নাটক। যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে (৯০+১৩ মি.) পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে ২-২ সমতা এনে উল্লাসে মাতে ক্রোয়েশিয়া। ডাগআউটে তখন স্তব্ধ পর্তুগাল শিবির। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার দীর্ঘ উদযাপনের পরই নামল ঘোর বিষাদ।

 

রেফারি ভিএআর মনিটর দেখে জানিয়ে দিলেন—আক্রমণের সময় ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় অফসাইডে ছিলেন! ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। স্তব্ধ হয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। এর কিছুক্ষণ পরই, যোগ করা সময়ের ১৯তম মিনিটে বাজে রেফারির শেষ বাঁশি। ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)