ছবিঃ সংগৃহীত
মাত্র ৪ লিটার ডিজেল বিক্রির বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। আর সেই বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্রেতা শাহীনুল মিয়ার এক ঘুষিতেই প্রাণ হারান ব্যবসায়ী আলী হোসেন। শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই বাজারে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহত আলী হোসেন (৩৮) বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই গ্রামের নাজির উদ্দিনের তৃতীয় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই স্ত্রীর স্বামী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি তার ভাই সেবুল আহমদের সঙ্গে স্থানীয় বিবিরাই বাজারে ‘উজ্জ্বল স্টোর’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
অভিযুক্ত শাহীনুল মিয়া (২৭) একই গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক। ঘটনার পর থেকেই তিনি স্বপরিবারে পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শাহীনুল মিয়া ট্রাক্টরের জন্য ডিজেল কিনতে উজ্জ্বল স্টোরে যান। এ সময় ব্যবসায়ী আলী হোসেন পূর্বে বিক্রি করা ৪ লিটার ডিজেলের বকেয়া টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুজনকে আলাদা করে দেন।
তবে কিছুক্ষণ পর শাহীনুল মিয়া আবার দোকানে ফিরে এসে আলী হোসেনের সঙ্গে পুনরায় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি আলী হোসেনের নাকে ঘুষি মেরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘুষির আঘাতে আলী হোসেনের নাক দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে সিএনজি অটোরিকশায় তোলার পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পুলিশ অভিযুক্ত শাহীনুল মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালালেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
নিহত আলী হোসেনের পিতা নাজির উদ্দিন বার্ধক্যজনিত কারণে এমনিতেই অসুস্থ, তার ওপর বয়সের ভারে তিনি অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। তবুও তিনি প্রশাসনের নিকট ছেলে হত্যার বিচার প্রার্থনা করেছেন।
বড়ভাই সেবুল আহমদ অভিযুক্ত শাহীনুল মিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, “আমার ভাই আলী হোসেন এমনিতেই অসুস্থ। তাছাড়া তার ছোট ছোট পাঁচজন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। ভাই তো দুনিয়াতে নেই, এখন এই শিশুগুলোকে মানুষ করবো কিভাবে?” তিনি বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমার জোর দাবি, আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ব্যবসায়ী আলী হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.