আজ বৃহস্পতিবার | ১৬ জুলাই ২০২৬

 শিরোনাম
বিয়ানীবাজারে ঘুষি মেরে ব্যবসায়ী হত্যা, প্রধান অভিযুক্ত শাহীনুর ও তার ভাই গ্রেফতার বিশ্বকাপ ফুটবলে আজ রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ, কোন দল যাবে ফাইনালে বিয়ানীবাজারে সমবায় সমিতির অর্থ লুট করে উধাও আ.লীগ নেতা, দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার এমবাপ্পের কাদিয়ে ফাইনালে স্পেন জকিগঞ্জে গ্যাস ফিল্ডের জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে তালা দেওয়ার চেষ্টা ভুমি মালিকের সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ: একজনের মৃত্যুদণ্ড তিনজনের যাবজ্জীবন হামের উপসর্গে সিলেটে আরও ২ শিশুর মৃত্যু ভোক্তা অধিকার সিলেট যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সিলগালা করলো দায়িত্ব বুঝে নিলেন সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আল মামুন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে

বিয়ানীবাজারে সমবায় সমিতির অর্থ লুট করে উধাও আ.লীগ নেতা, দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার

বিয়ানীবাজারে সমবায় সমিতির অর্থ লুট করে উধাও আ.লীগ নেতা, দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার

ছবিঃ সংগৃহীত


সিলেটের বিয়ানীবাজারে আলোচিত শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের শত শত অর্থ আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠান প্রধান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মিন্টু উধাও রয়েছেন। সে লাপাত্তা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি।

 

তাহেরা পারভীন শেফার নামে এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় (মামলা নং ২৫, ১৮/০৬/২৬) সমিতির দুই কর্মকর্তাকে পৌর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির।

 

গ্রেপ্তারকৃত দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের মাথিউরা দুধবকশী গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে খালেদা বেগম এবং বিয়ানীবাজার পৌরসভার নয়াগ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে খয়রুল ইসলাম। এর মধ্যে খালেদা বেগম সমিতির ক্যাশিয়ার ও খয়রুল ইসলাম রিসিপশনিস্ট হিসাবে কর্মরত বলে জানা গেছে। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মিন্টু প্রধান আসামি হলেও খয়রুল ইসলাম ও খালেদা বেগম ২ ও ৩নং এজাহারনামীয় আসামি।

 

মামলার বাদি তাহেরা পারভীন শেফা জানান, ‘এক প্রতিবন্ধি বোন ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনানিপাত করছি, কষ্টার্জিত সকল অর্থ মিন্টু স্যারের কথায় শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতিতে ডিপোজিট করেছিলাম। বিগত দুই বছর থেকে সেই টাকা পাওয়ার আশায় বারবার অফিসে ধর্না দিয়েও মিলেনি, উলটো মিলেছে অবহেলা ও কথার ফুলঝুরি। অনেকটা বাধ্য হয়েই আমি মহামান্য কোর্টে মামলা করেছি।

 

জানা যায়, পৌরশহরের কলেজ রোডে প্রতিষ্ঠিত এ সমিতি কয়েক বছরের মধ্যে বিয়ানীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহক সংগ্রহ করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অধিক মুনাফা ও আকর্ষণীয় লাভাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা হয়। শুরুতে নিয়মিত লাভাংশ পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে নানা অজুহাতে অর্থ ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমিতির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আমানতকারীরা বারবার অফিসে গেলেও তাদের জমাকৃত অর্থ কিংবা প্রতিশ্রুত লাভাংশ ফেরত পাননি। অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, এমনকি কয়েকজনকে মারধরেরও শিকার হতে হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জীবনভর সঞ্চিত অর্থ, আবার কেউ জমি বিক্রির টাকা কিংবা প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ এই সমিতিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। ফলে টাকা ফেরত না পেয়ে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

 

তিলপাড়া ইউনিয়নের দাসউরা গ্রামের ভুক্তভোগী সিদ্দিক আহমদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে সৌদে ছিলাম। সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডে ৭-৮ লাখ টাকা সঞ্চয় করি। ভেবেছিলাম, দেশে ফিরে লাভাংশসহ মূল অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও বৈবাহিক কাজ সম্পন্ন করবো। দেশে ফিরে তাদের অফিসে বারংবার ধর্না দিয়েও টাকা পাইনি। বরং তারা আমাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে বিদায় দিয়েছে।

 

একই ইউনিয়নের আরও দুই ভুক্তভোগী হচ্ছেন জসিম উদ্দিন ও জয়নুল ইসলাম। তারা বলেন, ‘বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে আব্দুল মান্নান মিন্টু ও তার অফিসের কর্মকর্তাদের পেছনে ঘুরে ২/৩ বার ৫০০/১০০০ টাকা করে পেয়েছি। কিন্তু মূলধনের দেখা নেই। আমরা এই সমিতিতে সঞ্চয় করে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা বার বার তাদের অফিসে গিয়ে আশ্বাস আর হুমকি-ধমকি ও গালিগালাজ শুনেছি।

 

এ ব্যাপারে জানতে বক্তব্য নিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান মিন্টুর বমুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে, দুই কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বলছেন, শুধু কর্মকর্তা নয়, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

 

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, একজন ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)