আজ বৃহস্পতিবার | ০৬ আগস্ট ২০২৬

 শিরোনাম
সিলেটে জুলাই শহীদদের স্মরণে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের শ্রদ্ধা নিবেদন ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জে ৬ হত্যা: দুই বছর পরও থামেনি স্বজনদের কান্না ‘ধর্ষণ করেন’ স্কুল ছাত্রীকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া, সালিশে যে সাজা সিলেটে ডিবি পরিচয়ে কিশোরকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, স্থানীয়দের বাধায় ব্যর্থ বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের সাবেক প্রফেসর মো. শহীদুল আলম সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে সাজা পরোয়ানভুক্ত আসামীসহ গ্রেফতার ২ তীব্র লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিলে চরম দূর্ভোগে বিদু‍্যৎ গ্রাহক বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয‍্যায় উন্নীত সম্প্রসারণে জায়গা পরিদর্শনে এমপি এমরান চৌধুরী টাঙ্গুয়ার হাওরে যে নিষেধাজ্ঞা দিল প্রশাসন জৈন্তাপুর বাজারে পচা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জে ৬ হত্যা: দুই বছর পরও থামেনি স্বজনদের কান্না

৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জে ৬ হত্যা: দুই বছর পরও থামেনি স্বজনদের কান্না

ছবি: সংগৃহীত


৪ আগস্ট। গোলাপগঞ্জের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর, রক্তাক্ত ও শোকাবহ দিন। একটি দিন, যেদিন একসঙ্গে নিভে গিয়েছিল ছয়টি তাজা প্রাণ। যে দিনের স্মৃতি আজও বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটায় হাজারো মানুষের। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের আহাজারি, মায়ের বুকফাটা কান্না, বাবার নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস, স্ত্রী-সন্তানের অপেক্ষা আর স্বজনদের ন্যায়বিচারের আকুতি আজও থামেনি।

 

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে, সরকার পতনের মাত্র একদিন আগে ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেদিন পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীদের গুলিতে গোলাপগঞ্জে একই দিনে শহীদ হন ছয়জন। পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও একজন প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে আন্দোলনে গোলাপগঞ্জের সাতজন জীবন উৎসর্গ করেন।

 

শহীদরা হলেন মো. নাজমুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, সানি আহমদ, জয় আহমদ, গৌছ উদ্দিন, মিনহাজ আহমদ এবং মো. পাবেল আহমদ কামরুল। তাঁদের আত্মত্যাগ গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

সেদিন সকাল থেকেই উপজেলা সদর, ঢাকাদক্ষিণ বাজার, ভাদেশ্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে গুলির ঘটনা ঘটে। বারকোট ও ধারাবহর এলাকায় গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন। গুরুতর আহত জয় আহমদকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। পরে উপজেলা সদর এলাকায় আরও সংঘর্ষে প্রাণ হারান গৌছ উদ্দিন ও মিনহাজ আহমদ।

 

আজও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেনি গোলাপগঞ্জ। যে মায়ের বুকের ধন হারিয়েছে, তাঁর কাছে ৪ আগস্ট মানেই নতুন করে শোকের দিন। যে সন্তান বাবাকে হারিয়েছে, তার কাছে এই দিন মানেই শূন্যতার আরেকটি বছর। যে স্ত্রী স্বামীকে হারিয়েছেন, তাঁর কাছে প্রতিটি ৪ আগস্ট ফিরে আসে অশ্রুসিক্ত স্মৃতি হয়ে।

 

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়নি বলে নিহত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা ইতোমধ্যে দুই দফা গোলাপগঞ্জে এসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে রক্তে লেখা এক কালো অধ্যায়।

 

সূত্র: সিলেট টুডে

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)