আজ মঙ্গলবার | ২৫ আগস্ট ২০২৬

 শিরোনাম
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১ কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে শিশুকন্যাকে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড সিলেটে আরও তিনদিনের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জাফলং ঘুরতে এসে বাস চাপায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত সিলেটে নিজ বাসার সামনে বিয়ানীবাজারের শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা সিলেটে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ৫ ঘন্টার চিরুনি অভিযান আটক ৬০ এ বছর নৌকাবাইচ হচ্ছে, আগামীবছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ না হওয়ার সিদ্ধান্ত বড়লেখায় পুলিশের অভিযানে মোটরসাইকেল চো/রসহ গ্রেফতার ৭ সিলেট ওসমানীনগরে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৪ বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতার’

কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে শিশুকন্যাকে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড

কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে শিশুকন্যাকে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে বাবা শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার মৌলভীবাজারের দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় দেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম রুনা বেগম। তার বয়স ছিল সাড়ে তিন বছর।

 

রুনা ছিল মামলার বাদী নেকজান বিবির মেয়ে। নেকজান বিবি একই সঙ্গে আসামি শরীফ আলীর স্ত্রী।

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শরীফ আলীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে আইনি ঝামেলায় ফেলতে শরীফ আলী নিজের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

 

ঘটনার রাতে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা শিশুকন্যা রুনাকে দা দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার দায় সালেক মিয়া নামের এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

 

তবে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় নিহত শিশুর মা নেকজান বিবির মনে। পরে তিনি জানতে পারেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার স্বামীই জড়িত।

 

পরে নিজ সন্তান হত্যার ঘটনায় নেকজান বিবি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হন। তার করা মামলার পর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

 

মামলার একপর্যায়ে শরীফ আলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

 

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানি শেষে শরীফ আলীকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একটি শিশুকন্যা তার বাবার কাছে রাজকন্যাসম। অথচ আসামি জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের সেই কোমলমতি সন্তানকেই নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালত শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

 

সূত্র: সিলেট ভয়েস 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)