আজ শনিবার | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 শিরোনাম
বিয়ানীবাজারে চারখাইয়ে ১৬ বছর ধরে ইউপি ভবনে ফাঁড়ি, হাইওয়ে থানার প্রস্তাব জৈন্তাপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টানা সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ বিয়ানীবাজারে শ্রীধরা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ওয়ান কার্ড সিলেটে বসতঘর থেকে জমির আলীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা যুবতিকে ১০ দিন আটক রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ বাড়ল সয়াবিন তেলের, কমল এলপি গ্যাসের দাম গোলাপগঞ্জে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৫ জন গ্রেপ্তার গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক দীর্ঘ আট বছর পর সিলেট ওসমানীতে নামল বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট

এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ওয়ান কার্ড

এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ওয়ান কার্ড

ছবি: সংগৃহীত


দেশের সব নাগরিককে জন্মের পরই একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামের এই পরিচয়পত্রটি নাগরিকের সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

 


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।


 

বর্তমানে দেশে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়স হলে দেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। তবে নতুন ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। জন্মের পরই নাগরিককে একক পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিচয়পত্র চালু হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নাগরিককে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।


 

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একক পরিচয়পত্র চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের কার্যকারিতা এই কার্ডের মধ্যে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া সেবাও ভবিষ্যতে এক-আইডির মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

 


জানা গেছে, একক পরিচয়পত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ নতুন এই ব্যবস্থার ধারণাকে ‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। 

 

অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি পরিচয়পত্র থাকবে, যা হবে তার ডিজিটাল পরিচয় এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন পরিচয়পত্রে কী কী তথ্য থাকবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 


জানা গেছে, প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই মার্কিন ডলার, যা বর্তমান হিসাবে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর বাইরে প্রতিটি কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে এক মার্কিন ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

 

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।


প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় হবে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে। এ খাতে মোট ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।


বর্তমানে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র ও নম্বর চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবাদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হতে পারে।

 

ত‍থ‍্যসূত্র: সিলেট ভিউ

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)