ছবি: সংগৃহীত
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বিবেচনায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাইয়ে হাইওয়ে থানা স্থাপনের প্রস্তাব করেছে পুলিশ।
দেশের মহাসড়কগুলোকে অপরাধমুক্ত করতে প্রতি ৩৬ কিলোমিটার পরপর নতুন থানা স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে চারখাইকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানা যায়, সিলেট-শেওলা-সুতারকান্দি চারলেন সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকায় চারখাইকেন্দ্রিক মহাসড়ক নেটওয়ার্ক জাতীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। দিন দিন সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতাও। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরই মধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, দেশের মহাসড়কগুলোকে অপরাধমুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকটি মহাসড়কের ৩৬ কিলোমিটার পরপর থানা স্থাপনের প্রস্তাব করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু উদ্যোগ নেওয়ার আগেই সরকারের পতন হয়।
হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সড়ক-মহাসড়ক কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে আনা হচ্ছে। মহাসড়কে নতুন থানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের জন্য উন্নতমানের যানবাহন কেনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং পুলিশের কর্মকাণ্ডের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে মহাসড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে শেওলা-সুতারকান্দি স্থলবন্দর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকা ঘিরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠছে।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭০টি স্থানে প্রায়ই ছিনতাই-ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এ কারণে ওইসব স্থানে নতুন থানা করার প্রয়োজন রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিয়ানীবাজারের চারখাই, ফেঞ্চুগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুর, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ। চারখাই এলাকায় বিয়ানীবাজার থানার অধীনে একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে।
১৬ বছর ধরে ইউপি ভবনেই পুলিশ ফাঁড়ি
চারখাই-জকিগঞ্জ সড়কের উত্তর পাশে চারখাই বাজারসংলগ্ন এলাকায় চারখাই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় অবস্থিত। চারখাই বাজারের ত্রিমোহনীতে অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কয়েক মাস পর সেটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের একটি অংশে স্থানান্তর করা হয়।
এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে ফাঁড়ির কার্যক্রম অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়নি। বর্তমানে ভবনটির চারটি কক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম এবং আটটি কক্ষে পলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে।
সূত্র: সিলেট ভিউ
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.