ফাইল ছবি
ইতালিতে প্রতিবছর বৈধভাবে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হিসাব ধরলে এ সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষা প্রশিক্ষণে ইতালির সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছেন। দেশটিতে থাকা প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশির মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের বাসিন্দা। অবৈধ পথে অভিবাসন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ কর্মশালার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশযাত্রা কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে ইতালিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে যাতায়াত বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবেও উঠে আসে খাদ্য অপচয় রোধ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। এসব ক্ষেত্রে ইতালির মিলান মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে একটি পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি স্থপতি ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইতালি। এ জন্য ইতালি থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং নির্দিষ্ট একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে টুইনশিপ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.