আজ সোমবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 শিরোনাম
সিলেটে মাদক প্রবেশের ‘হটস্পট’ বিয়ানীবাজারের চারখাই, একমাসে কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার বড়লেখায় গৃহবধূর মৃত্যুর মামলায় ননদ গ্রেফতার বিয়ানীবাজারে পুলিশের অভিযানে পেশাদার দুই চোর গ্রেপ্তার সিলেটে জালিয়াতির অভিযোগে ‘স্টেপ’ নামে জুতার দোকান সিলগালা শ্রীমঙ্গলে বসতঘরের খাটের নিচে ১৬ ফুট অজগর উদ্ধার, আতঙ্ক বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আজ থেকে শুরু সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি বিয়ানীবাজারে পৃথক অভিযানে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৩ নেতা আটক বৈরাগীবাজারে আপন ভাতিজীকে ধর্ষণ করলো চাচা, এক মাস পর মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

সিলেটে মাদক প্রবেশের ‘হটস্পট’ বিয়ানীবাজারের চারখাই, একমাসে কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

সিলেটে মাদক প্রবেশের ‘হটস্পট’ বিয়ানীবাজারের চারখাই, একমাসে কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত


সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিজিবি-বিএসএফের নজরদারি ও নিয়মিত টহল— সবকিছুর মধ্যেও সিলেটে থেমে নেই মাদক ও চোরাই পণ্যের প্রবেশ। সিলেটের বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে দেশে আসা ইয়াবা ও চোরাই পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে ব্যবহার করা হচ্ছে পূর্ব সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ জংশন চারখাই বাজারকে। সম্প্রতি পুলিশের একের পর এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এ রুট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারখাই এলাকায় পরিচালিত আটটি অভিযানে ৩৪ হাজার ৩০০ এর বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বলে দাবি পুলিশের।
এদিকে পৃথক এসব অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়।

 

আটককৃতরা সকললেই সবাই সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির সামনের চেকপোস্ট ও আশপাশের সড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা এসব মাদক পরিবহনে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন পন্থা ব্যবহার করছে কারবারিরা।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ২৫ আগস্ট একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধার করা হয় সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা। ৩০ আগস্ট ১ হাজার ৮০০, ২ সেপ্টেম্বর ৬ হাজার এবং ৪ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর জকিগঞ্জ-চারখাই সড়কে ২ হাজার ইয়াবাসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরদিন একই এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস থেকে ৭ হাজার ইয়াবাসহ আরও একজনকে আটক করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, চারখাই এলাকায় আগে ভারতীয় প্রসাধনী, চিনি, জিরাসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য পরিবহনের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে ইয়াবা পাচারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের দাবি, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আসা মাদক ও চোরাই পণ্যের একটি অংশ চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর, জকিগঞ্জ-চারখাই, জকিগঞ্জ-জিরো পয়েন্ট-চারখাই এবং কানাইঘাট-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

তবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ অবস্থায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনীব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও মাদক পরিবহনের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। অতীতে জেলার এক যুবলীগ নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকা নেটওয়ার্ক বর্তমানে জেলা যুবদলের এক প্রভাবশালী নেতার হাতে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিয়ানীবাজার থানার আওতাধীন চারখাই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হোসাইন আহমদ জানান, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের চারখাই এলাকায় তারা নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতেও বিভিন্ন অভিযান চালান তারা। এসব অভিযানে আগে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ফাঁকি দেয়া ভারতীয় পণ্য ধরা পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে এ রুটে মাদক পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে বিপুল মাদক ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা তাদের চেকপোস্ট ও অভিযানে আটকা পড়ছে।

চারখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি জকিগঞ্জ-চারখাই-সিলেট সড়কপথে বিভিন্নভাবে সীমান্তের মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এক্ষেত্রে মাদক কারবারিরা চারখাই মোড়টাকে ব্যবহার করছে। এর প্রভাব স্থানীয়ভাবেও পড়ছে। ইদানিং চারখাই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিস্তার লাভ করছে। এতে আমাদের যুব সমাজ অনেকটাই ধ্বংসের পথে নিমজ্জিত হচ্ছে। মাদক পাচার ও এর বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।’

সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘চারখাই বাজার হচ্ছে পূর্ব সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর ক্রসিং মোড়। ব্যস্ত এই মোড় ব্যবহার করে বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাই পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের ফলে গত প্রায় দুই মাসে আড়াই কোটি টাকারও বেশি মাদক ও চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আসা পণ্য পাচার ঠেকাতে জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের কারণে মাদক ও মাদক কারবারিরা আটক হচ্ছে।’

সীমান্তে বিজিবির দায়িত্ব প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘পুলিশের কাজ তো সীমান্তে নয়, সীমান্তের দায়িত্ব বিজিবির হাতে। জকিগঞ্জ সীমান্তের অধিকাংশ নদীপথ থাকায় মাদক ও চোরাই পণ্য সহজেই দেশে আসছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে এসব পণ্য পরিবহন বন্ধে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
 

সূত্র: সিলেট ভয়েস 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)