ছবিঃ সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাটে প্রয়াত স্কুল শিক্ষক বীরেন্দ্র দেবের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা কোন সাম্প্রদায়িক ব্ষিয় নয়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ আগুণের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে সিলেট জেলা পুলিশ।
শুক্রবার রাতে সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. সম্রাট তালুকদার সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ৭নং নন্দীর গাঁও ইউনিয়নের বহর গ্রাম পূর্ব পাড়ায় ওই বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এই অগ্নিকান্ডের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ প্রচার করতে থাকেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বীরেন্দ্র দেবের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এ আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও প্রচার চালান কেউ কেউ।
এ নিয়ে শুক্রবার রাতে দেওয়া জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সিলেটের গোয়াইনঘাটে একটি পরিবারের বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি নিছক একটি দুর্ঘটনা হলেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে বলে সিলেট জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তিতে ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ইতিমধ্যে ভিকটিমের পরিবারের সাথে থানা পুলিশ কর্তৃক যোগাযোগ করে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক ভাবে শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আগুন লাগার বিষয় ভিকটিমের পরিবারের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ারও অনুরোধ জানায় পুলিশ।
জানা যায়, প্রয়াত বীরেন্দ্র দেবের চার ছেলে এই বাড়িতে থাকেন। তার বড় ছেলে বিকাশ চন্দ্র দেবও স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি বলেন, খড়ের (গো-খাদ্য ) ঘর থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। খড়ের ঘরটি বসত ঘরে সঙ্গে লাগানো ছিল। দ্রুতই আগুন বসত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, দুপুরে আমার স্ত্রী টিউবওয়েলে পানি আনতে গিয়ে প্রথমে দেখতে পান খড়ের ঘরে ও বসত ঘরে আগুন জ্বলছে। আগুনের শিখা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
তার পরিবারের সাথে কারো শত্রুতা নেই জানিয়ে বিকাশ দেব বলেন, কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগও নাই। এটি দুর্ঘটনা। বরং এলাকার মানুষজনের সহযোগীতায় সর্বস্ব হারানোর পরও আমি এখনো টিকে আছি।
অগ্নিকান্ডে খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নব কুমার সিংহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খড়ের ঘরে থেকে বিদ্যুতের শর্ট-সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগতে পারে।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.