আজ সোমবার | ০৪ মে ২০২৬

 শিরোনাম
উচ্চতর স্কেলে উন্নীত হচ্ছেন সিলেটের ৬৭ শিক্ষক বিয়ানীবাজারে সরকারি কলেজে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ, পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু বড়লেখায় ৫ হাজার ৭৬০ কেজি অবৈধ ভারতীয় জিরাসহ একজন গ্রেপ্তার বিয়ানীবাজারে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে মুসল্লিকে হত্যা, ঘাতক আটক গোলাপগঞ্জে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ছুনু মিয়া গ্রেফতার দ্রুত সিলেট-ঢাকা ৬ লেনের কাজ শেষ করতে চান প্রধানমন্ত্রী অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারত সিলেটে সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জৈন্তাপুরে পুলিশের অ ভি যা নে ২শত ঘনফুট পাথর জ ব্দ, গ্রেফতার ২

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ৭২ শতাংশই ছাত্রী

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ৭২ শতাংশই ছাত্রী

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৪ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে নয়টি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৮০ জন।

আর দুবছর আগে এসব বোর্ডে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬ জন। বাকি ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৬ জনের হদিস নেই। ১১টি বোর্ডের তথ্য যুক্ত হলে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ৭২ শতাংশই ছাত্রী। অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮১৪ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই হয়তো শিশুশ্রমে ভিড়ে গেছে কিংবা বিয়ে হয়েছে। লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রী-এই খবর উদ্বেগজনক। এসব ছাত্রছাত্রীকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

নইলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের যে অর্জন এবং সুনাম আছে তা নষ্ট হবে। কেননা এ খাতে আমরা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছি। পাশাপাশি কেন ঝরে পড়ল এবং অন্য স্তরের কী অবস্থা, তা চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ সমীক্ষা দরকার।

প্রতিবছর পরীক্ষা সামনে রেখে সব স্কুল ও মাদ্রাসায় নির্বাচনি পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাধারণত এ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফর্ম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয় না। কিন্তু এ বছর নির্বাচনি পরীক্ষা হয়নি। কিন্তু এরপরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বসছে পরীক্ষায়।

এ প্রসঙ্গে বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আমাদের তথ্য বলছে, এ বছর দুই লাখের কাছাকাছি পরীক্ষার্থী বেড়েছে।’ নির্বাচনি পরীক্ষা না হওয়ায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত হিসাবে অংশ নিয়েছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৮০ শিক্ষার্থী। আর তখন নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৩ জন। অর্থাৎ বাকি ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন বিভিন্ন কারণে পরীক্ষা দেয়নি।

এটা নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীর তুলনায় ২৪ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী যে তথ্য প্রকাশ করেন তাতে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়েছে মাদ্রাসায়। মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৭৯ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ জন। বাদ যাচ্ছে ৭০ হাজার ২১৯ জন। এটা শতকরা হিসাবে ২১ দশমিক ৮২। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষে আছে কুমিল্লা।

বোর্ডটিতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯২ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ জন। পরীক্ষা দিচ্ছে না ৩৫ হাজার ৪৯৮ জন বা ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। ঝরে পড়ার হারে সাধারণ বোর্ডের মধ্যে দ্বিতীয় সিলেট বোর্ড। ওই বোর্ডে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে যশোর বোর্ড। এই বোর্ডে ১৩ দশমিক ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এভাবে চট্টগ্রাম বোর্ডে ১২.৬৯ শতাংশ, ঢাকায় ১২.৬৫ শতাংশ, বরিশালে ১২.২৭ এবং দিনাজপুরে ১০.৩৫ শতাংশ ঝরে পড়েছে। সাধারণ ৮টি বোর্ডে ঝরে পড়ার হার ১২.৭৫ আর সবমিলে ১৪.২৬ শতাংশ।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এসব শিক্ষার্থীকে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তাদেরকে প্রণোদনার অংশ হিসাবে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। কিন্তু এটা পাওয়ার অপরিহার্য শর্ত তাকে ‘অবিবাহিত’ থাকতে হবে। কিন্তু যে লাখ ছাত্রী পরীক্ষায় বসছে না, তাদের মধ্যে যে কজনের বিয়ে হয়েছে আর তাদেরকে যদি স্কুলে দেখতে চাই তাহলে ‘অবিবাহিত’ থাকার শর্ত তুলে দিতে হবে।

নইলে তারা আগ্রহী হবে না। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, উপবৃত্তি কার্যক্রম বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে। তবে আমি মনে করি, এটা অবশ্যই একটি আলোচনার বিষয়।

ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি হচ্ছে না : এদিকে এক যুগ ধরে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু আগামী বছরে ফেব্রুয়ারিতে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে না। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবারের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হবে ২৩ নভেম্বর। সেক্ষেত্রে ১ ফেব্রুয়ারি পরের এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ, শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বিষয় আছে। কবে ও কীভাবে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা পরে জানাতে পারব।’

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)