ছবিঃ সংগৃহীত
সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ভূমির মালিকরা। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত তালা না ঝুলিয়েই ফিরে যান তারা। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আনন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জাযা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) জকিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান চালিয়ে গ্যাসের সন্ধান পায়। পরে গ্যাস ফিল্ড স্থাপনের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৬ কেদার (কিয়ার) জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
ভূমির মালিকদের অভিযোগ, অধিগ্রহণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণ না দিয়েই গ্যাস ফিল্ডের খনন ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা হয়। তখনও তারা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি জানিয়ে কাজ বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন।
অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, রাজনীতিবিদ আব্দুস সালাম, শিহাব উদ্দিন, মোস্তফা আহমদ, আতাই মিয়া, সেলিম আহমদ, আব্দুল হান্নান, ওয়াহিদ মিয়া, নুরুল হুদাসহ আরও অনেকে।
ভূমির মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা দাপ্তরিক জটিলতার কারণে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে জমির শ্রেণি নিয়ে নতুন জটিলতাও তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হলেও সেখানে কোনো সমাধান হয়নি ।
জকিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ফারুক আহমদ জানান, ২০১৭ সালে জমি অধিগ্রহণের পর মাটি ভরাটের সময়ও মালিকরা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি জানিয়ে কাজ বন্ধ করেছিলেন। পরে এলাকার স্বার্থ এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের বিষয় বিবেচনায় মালিকদের বুঝিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তাদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার জানান, ২০২৪ সালে জমির যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম। ভূমি অধিগ্রহণের সময় থেকে এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা জমি ছাড়ব না এবং গ্যাস ফিল্ডে তালা থাকবে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘ভূমি মালিকরা তালা ঝুলাতে গিয়েছিলেন। আমি তাদেরকে তালা না ঝুলাতে অনুরোধ আহ্বান করে বলেছি, এটা জেলা প্রশাসনের বিষয়। আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে । পরে ভূমি মালিকরা তালা না ঝুলিয়ে চলে আসেন।
নবনিযুক্ত ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
সূত্রঃ সিলেট ভয়েস
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.