আজ মঙ্গলবার | ২০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা।

এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আকাশ পথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের জন্য ২০০ ট্রলি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই ট্রলি হস্তান্তরের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশের পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ওই দুই ব্যক্তির নাম ছাড়া তাদের পরিচয় শনাক্ত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখে।

ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কিনা, তারা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাঁর অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে মিশনকে আগে থেকে কিছু না জানানোর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়া গেলে তাদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
 

সূত্র: সিলেট টুডে 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)