আজ শুক্রবার | ২০ মার্চ ২০২৬

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ : ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে বাংলাদেশ

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ : ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে বাংলাদেশ

ফাইল ছবি


দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের বহুল আলোচিত ঘটনায় কানাডিয়ান বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে চলা মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

 

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট ‘ইকসিড’ এক ঐতিহাসিক রায়ে নাইকোকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 
২০০৩ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব পায় নাইকো। তবে অদক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় না রাখায় ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং ২৪ জুন পরপর দুবার সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

 

সেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যায় প্রায় আট বিলিয়ন ঘনফুট মূল্যবান গ্যাস। তছনছ হয়ে যায় আশপাশের জনপদ ও পরিবেশ। পরে পেট্রোবাংলা ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলে নাইকো তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত গড়ায়।


ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নাইকোর অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতার কারণেই এই মহাবিপর্যয় ঘটেছিল।

 

পেট্রোবাংলার সূত্রমতে, ইকসিডের রায়ে পুড়ে যাওয়া গ্যাসের দাম বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য আরও দুই মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১৬ কোটি টাকা।


এর আগে ২০১৬ সালে বাপেক্স প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত আদেশ এল।


বর্তমানে ছাতক পূর্ব ও পশ্চিম মিলিয়ে দুই থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিশাল মজুতের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

 


পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এই চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এরই মধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)