ছবিঃ সংগৃহীত
শ্বাসরুদ্ধকর, রোমাঞ্চকর আর টানটান উত্তেজনা—ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এর চেয়ে দারুণ কোনো চিত্রনাট্য বোধহয় আর হতে পারত না। মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে।
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে ডাচদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তই ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর দুর্দান্ত এক গোলে লিড নিয়ে উল্লাসে মেতেছিল নেদারল্যান্ডস। ডাচ সমর্থকরা যখন জয়ের প্রহর গুনছিলেন, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে পাশার দান উল্টে দেন ইসা দিয়োপ।
তার নাটকীয় গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। এরপর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো দল জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যপরীক্ষা তথা টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের শুরুটা অবশ্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষেই ছিল। প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন টেউন কুপমাইনার্স।
অন্যদিকে মরক্কোর হয়ে প্রথম শট নিতে এসে হতাশ করেন নিল আল আইনাউই, তার শটটি প্রতিহত হয় ক্রসবারে লেগে। তবে ডাচদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। জাস্টিন ক্লাইভার্টের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় মরক্কো। সুফিয়ান রাহিমির শট ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন হাত দিয়ে ছোঁয়ালেও বল জড়ায় জালে, সমতায় ফেরে মরক্কো।
এরপর ভাউট ভেগহর্স্ট ডাচদের হয়ে এবং তালবি মরক্কোর হয়ে গোল করলে রোমাঞ্চ আরও বাড়ে।
তবে ডাচ ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় নেদারল্যান্ডস। মরক্কোর সামনে সুযোগ ছিল লিড নেওয়ার, কিন্তু আশরাফ হাকিমিও মারেন পোস্টে!
ম্যাচে ফেরার এমন সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ডাচরা। ক্রাইভেন সামারভিলের শট বাম দিকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বনো।
সবশেষে মরক্কোর নায়ক হয়ে স্পট কিক নিতে আসেন ইসমাইল সাইবারি। কোটি ভক্তের চোখ তখন তার পায়ে। কোনো ভুল করেননি তিনি, নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়েই বুনো উল্লাসে মাতান পুরো দলকে। আর তাতেই ডাচদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ ষোলোর উল্লাসে মেতে ওঠে মরক্কো।
সূত্রঃ কালের কণ্ঠ
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.