আজ মঙ্গলবার | ০৬ অক্টোবর ২০২৬

 শিরোনাম
বিয়ানীবাজার থেকে নারী নিখোঁজ, থানায় সাধারণ ডায়েরি ঢাকায় মেয়র প্রার্থী সিলেট-৬ আসনের জামাত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু, রাতে অযথা ঘোরাঘুরি, আড্ডা দিলেই ধরবে পুলিশ কুড়ারবাজারকে হারিয়ে বৈরাগীবাজারের কইরবন্দ চ‍্যাম্পিয়ন সিলেটে পৃথক অভিযানে ভারতীয় পণ্যের চালান ফেলে পলায়ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি গোয়াইনঘাটে প্রায় ৪ কেজি ভারতীয় জিরাসহ ২ যুবক আটক সিলেটে ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে যুবক খুন, দুই পক্ষের সংঘর্ষ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকার পণ্য উদ্ধার জুমার দিনের বরকত লাভে যে ১৫ আমল করবেন

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন বাবুল

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন বাবুল

ছবি: সংগৃহীত


সিলেট নগরের রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আসামি বাবুল মিয়া।

 

চারদিনের রিমাণ্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তিনি এই জবানবন্দী দেন।

 

সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এখন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তবে আদালতে জবানবন্দিতে তিনি কী বলেছেন তা জানাতে পারেননি কোর্ট ইন্সপেক্টর।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

 

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, চার দিনের রিমান্ড শেষে বেলা ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তোলা হয়। এসময় বাবুল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

প্রসঙ্গত, ১২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

 

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

 

পিলিশের দাবি, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন তিনি ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি এতে অমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

 

একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান বলে পুলিশের দাবি। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

হত্যাকান্ডের তিনদিন পর গত ১৪ আগস্ট রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিলো না।

 

১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া।

 

জানা যায়, নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন।

 

সূত্র: সিলেট টুডে 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)