ছবি: এআই
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে বিয়ানীবাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ছয়টি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলে রীতিমতো ধস নেমেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে, পাঁচটি মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার ফলাফল তুলনামূলক সন্তোষজনক। বিয়ানীবাজার কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠানে ফলাফলপত্র অনুযায়ী সম্মিলিত পাসের হার ৬৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।
এইচএসসি পরীক্ষায় বিয়ানীবাজারের ছয়টি কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১১২ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১৩৫ জন। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে ১ হাজার ২৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৮০২ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৯৩ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, বৈরাগীবাজার আইডিয়াল কলেজে ১৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬০ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। সৈয়দ নবীব আলী কলেজে ২০৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৮ জন। পাসের হার ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজে ৩১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬২ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিয়ানীবাজার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
কুড়ারবাজার কলেজ থেকে এ বছর মোট ১০0 জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৮৬ জন এবং উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। বিয়ানীবাজার উপজেলার ছয়টি কলেজের সম্মিলিত পাসের হার এমনিতেই ৪৯.৪৯ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যেখানে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে পাসের হার ৬১.৯৩% এবং উপজেলার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ২৬.২৫%। কিন্তু এসব হিসাবের মধ্যেও কুড়ারবাজার কলেজের মাত্র ১৪ শতাংশ পাসের রেকর্ডটি উপজেলার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। ১০১ জনের মধ্যে মাত্র ১৪ জন পাস করার এই হতাশাজনক চিত্র বিয়ানীবাজারের শিক্ষা পরিস্থিতি ও শিক্ষার মান নিয়ে চরম উদ্বেগ এবং নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় বিয়ানীবাজার কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের অধীনে পাঁচটি মাদরাসা থেকে মোট ১৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ফলাফলপত্রের গ্রেডভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৬৩ জন। ফলাফলপত্রে সম্মিলিত পাসের হার উল্লেখ করা হয়েছে ৬৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।
মাদরাসাভিত্তিক ফলাফলে দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদরাসায় ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলাফলপত্রে পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৯ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ানীবাজার কামিল মাদরাসায় ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৩ জন। ফলাফলপত্রে এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৪ শতাংশ উল্লেখ রয়েছে।
বৈরাগীবাজার সিনিয়র আলিম মাদরাসায় ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলাফলপত্রে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। রহমাতাবাদ আলিম মাদরাসায় ২০ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১১ জন। পাসের হার ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে, মাথিউরা সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এইচএসসি পরীক্ষায় ছয়টি কলেজের সম্মিলিত পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। বিশেষ করে বিয়ানীবাজার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের পাসের হার ৩২ শতাংশেরও কম। বিপরীতে, আলিম পরীক্ষায় পাঁচটি মাদরাসার ফলাফল তুলনামূলক সন্তোষজনক। দুই পরীক্ষার ফলাফলে এই পার্থক্য বিয়ানীবাজারের কলেজ ও মাদরাসাগুলোর শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.