ছবিঃ প্রতীকী
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে সংকট সারা দেশের মতো বিয়ানীবাজারেও প্রকল আকার ধারণ করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ন্নি আয়ের মানুষ। এলপিজি গ্যাসের বিকল্প খোঁজতে গিয়ে অনেকেই বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝোকছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে পৌরশহরের কলোনিতে বসবাসবাসি দিনমজুর পরিবার গ্যাসের বিকল্প হিসাবে বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না বান্না করছেন।
বিয়ানীবাজারে বেশ কয়েকটি গ্যাস কোম্পানির ডিলার থাকলেও শহরসহ আশাপাশ এলাকায় হাসিব এন্টারপ্রাইজ সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করছে। গত তিন দিনে সোমবার প্রায় ৫শত বোতলের একটি মাত্র গাড়ি আসার সাথে সাথে শেষ হয়ে গেছে। ভুক্তা পর্যায়ে হাসিব এন্টারপ্রাইজ ১২ কেজির সিলিন্ডার সোমবার বিক্রি করেছে ১৪শত ৯০ টাকায়।
হাসিব এন্ডার প্রাইজের ডিলার জাকারিয়া হোসেন বলেন, আমাদের গডাউনের কয়েক বাজার খালি বোতল রয়েছে। গাস ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে গাড়ি দুই থেকে দিন পর একটি আসছে সাড়ে ৪শত থেকে ৫শত বোতল নিয়ে সে পরিমান খালি বোতল আবার নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় থেকে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। একমাস আগেও আমরা নিজস্ব পরিবহরে দোকানে দোকানে সিলিন্ডার দিয়ে আসতাম। সরবরাহ কমায় সেটিও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
পৌরশহরের কলেজ রোডে ভাড়া বাসায় থাকেন গৃহিনী সুফিয়া বেগম। স্বামীর ছোটখাটো ব্যবসা রয়েছে। হঠাৎ করে গ্যাসের সংকট তৈরী হওয়ায় তাকে প্রায় দুইশত টাকা বাড়তি দিয়ে গ্যাস (১২ কেজি) সিলিন্ডার নিতে হয়েছে। একই অবস্থা হাসিনা রাইস মিলের পাশের কলোনিতে থাকা শ্রমজীবী মর্জিনা বেগমের। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত দুইদিন থেকে বারান্দায় মাটির চুলা রান্না করতে হচ্ছে। মুর্জিনা জানান, বাধ্য হয়েই মাটির চুলায় রান্না করছি। এ চুলা রান্না করতে গিয়ে কাঠ, কাঠের গুড়ো ও কয়লা কিনতে হচ্ছে। সারাদিন কাজ করে এসে এভাবে রান্না করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহে সংকটের এর প্রভাব পড়েছে এলপিজি গ্যাস স্টেশনেও। শহরতলীর হাজী মতিউর রহমান কমপ্লেক্সে মা ফাতেমা এলপিজি গ্যাস স্টেশনে গ্যাস নেয়ার জন্য গাড়ি দাড়িয়ে থাকলেও চাহিদা মতো সরবরাহ করতে পারছেন না এ স্টেশনের কর্ণদার কয়ছর আহমদ পাপ্পু। তিনি বলেন, যেসব গাড়ি গ্যাস নিতে আসছে তাদের অর্ধেক সিলিন্ডার করে গ্যাস দেয়া হচ্ছে। আজকের মধ্যে গ্যাস না আসলে কাল থেকে স্টেশন বন্ধ রাখতে হবে।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.