ছবিঃ প্রতীকী, এ আই
বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব মুড়িয়া এলাকার সারপার বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আষ্টঘরি ও সারপার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে দু গ্রামবাসী মসজিদে মাইকিং করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
জানা যায়, গত শনিবার সারপার বাজার মাঠে দুই গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালীন ও খেলা-পরবর্তী উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে আষ্টঘরি ও সারপার গ্রামের যুবকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই বিরোধের জেরে রোববার রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মারামারির ঠিক আগে দুই গ্রামেই মাইকিং করে লোকজন জড়ো করা হয়। মাইকিংয়ের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
দীর্ঘসময় ধরে চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষে আষ্টঘরী গ্রামের মূল ব্যক্তিরা হলেন সাইদুর রহমান (২৫), পিতা- মজির উদ্দিন; মামুন আহমেদ (২৬), পিতা- আব্দুল হান্নান; সাইদুর রহমান, পিতা- জয়নাল আবেদীন; সাহিদ (১৮), পিতা- নাজিমুদ্দিন; আসিম উদ্দিন (৪৫), পিতা- মোবাশ্বির আলী এবং শিপার আহমদ (২৬), পিতা- আসদ্দর আলী। অন্যদিকে সারপার গ্রামের মূল ব্যক্তি হলেন শাহিন আহমদ (২৬), পিতা- ফয়জুল হক।
ঘটনার খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার ও বিয়ানীবাজার থানার ওসি ওমর ফারুকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে মুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আল মামুন বলেন, আশঙ্কাজনক এই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। আশা করি, সবার সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করা সম্ভব হবে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করি, নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।
সূত্রঃ সবুজ সিলেট
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.