ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৯ গোল দিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের বিপক্ষে জয় পাবে ইকুয়েডর এমনটা কজন বিশ্বাস করতেন।
এমনকি ইকুয়েডরের অনেক ফুটবলাররাও হয়তো এমনটা ভাবেননি। তবে তাদের হয়ে আজ বাজি ধরেছিল ওয়াল্টার নামে ওরাংওটাং এক প্রজাতি। জার্মানির বিপক্ষে আজ ইকুয়েডর জিতবে ভবিষ্যৎদ্বাণী করে বোর্নি-সুমাত্রান প্রজাতির ওরাংওটাং। নিউ জার্সিতে তার করা সেই ভবিষ্যৎদ্বাণী মিলেও গেছে।
জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডর। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম জয় বিশ্বকাপের নকআউটও নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপের ৩ নম্বর দল হিসেবে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর তাই বাঁধাভাঙা উল্লাসে মাতল ইকুয়েডর।
জার্মানির আগের দুই ম্যাচেও ভবিষ্যৎদ্বাণী করেছে ওয়াল্টার। কুরাসাও এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানরা জিতবে এমন ভবিষ্যৎদ্বাণী করেছিল ডর্টমুন্ড চিড়িয়াখানার এই ওরাংওটাংটি। সেই ভবিষ্যৎদ্বাণীও ঠিক হয়েছিল।
ইকুয়েডরের কাছে প্রথম হারের ম্যাচে দারুণ শুরু করেছিল জার্মানি। নিউ জার্সিতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২ মিনিটে লিড নিয়ে।
বিরতির পর পরেই পেনাল্টি পেয়েছিল জার্মানি। তবে ভিএআরে তা বাতিল হয়। ৪৬ মিনিটে ডি বক্সে কাই হাভার্টজ ফাউলের শিকার হওয়ার আগেই তার সতীর্থ সানে ইকুয়েডরের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করে বসেন। ফলস্বরূপ মনিটরে দেখার পর নিজের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনেন রেফারি।
৬২ মিনিটে ইকুয়েডরকে লিড এনে দেওয়ার মতো এক শট নিয়েছিলেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। তবে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরাল শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় প্রতিহত করেন ম্যানুয়েল নয়ার। ৭২ মিনিটে অল্পের জন্য বল পোস্টের কাছ দিয়ে যাওয়ায় আবারও গোল হজম থেকে বেঁচে যায় তারা।
বিপরীতে ৭৬ মিনিটে দলকে লিড এনে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছেন সানে। বক্সের মধ্যে থেকে শট নিতে গিয়েও না নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় কিকটা প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের হাতে দিয়ে বসলেন।
অন্যদিকে ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে উল্লাসে মাতে ইকুয়েডর। কেভিন রদ্রিগেজের হেড থেকে গোললাইনের কাছ থেকে নয়্যারকে পরাস্ত করেন ভলি শটে গোল করা গঞ্জালো প্লাতা। তার সেই গোলেই পরে জার্মানদের বিপক্ষে প্রথমবার জয় পায় ইকুয়েডর। আগের দুই দেখায় হেরেছিল তারা।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন সর্বশেষ ম্যাচে বদলি নেমে জার্মানির নায়ক বনে যাওয়া ডেনিজ উনদাভ। কিন্তু শটটা মারলেন গোলপোস্টের বাইরের জালে। পরে আর গোল শোধ দেওয়া হয়নি জার্মানির। টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানি তাই ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ইকুয়েডরের কাছে হারলেও গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউটে গেছে জার্মানি। ‘ই’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা চূড়ায়। সমান ৬ পয়েন্ট আইভরি কোস্টের হলেও গোল ব্যবধানে তারা পেছনে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে। দুই দলের সঙ্গী হয়ে নকআউটের টিকিট পেয়েছে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডর। তৃতীয় সেরাদের তালিকায় তারা বর্তমানে চূড়ায় আছে।
সূত্রঃ সিলেট ভিউ
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.