ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের বিশ্বনাথ থানাধীন বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকার ছাবাল শাহ মাজারের বাউল গানের একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রাণ হারিয়েছেন বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবীসহ আরও ৮জন মারা যান।
বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৯)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা বৈরাগী বাজার এলাকার ছাবাল শাহ মাজারের বাউল গানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী। সেখানের অনুষ্ঠান শেষ করে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসে করে কিশোরগঞ্জের চন্ডিবের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পথিমধ্যে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবীসহ আরও ৮জন মারা যান।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বারি মিয়ার পুত্র আবুল হোসেন (৪৬), কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৯), কুমিল্লার লাকসাম থানার রফিকুল ইসলামের পুত্র আরমান হোসেন রাহিম (১৯)। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের কন্যা জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি তিন জনের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় সনাক্তকরণের কাজ করছে পিবিআই।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার করে অর্থ সহায়তা করা হয় বলে জানা গেছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা জানান, দুর্ঘটনার পর থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নিহতদের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস জব্দ করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সিলেট ভিউ
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.