আজ শুক্রবার | ০৯ অক্টোবর ২০২৬

 শিরোনাম
বিয়ানীবাজারসহ দেশের ৪৬ কূপের গ‍্যাসের খনন কাজ শেষ বিয়ানীবাজারে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে সিসার স্বাস্থ্য ঝুঁকি ১ লাখ ৬৫ হাজার কর্মী নেবে ইতালি, আবেদন করবেন যেভাবে সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ সাড়াসি অভিযান, আটক ৬১ ৩-০ গোলে জিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা ১০ম গ্রেডে বেতন পাবেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা সারা দেশের জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঘুষ খাওয়া লাগবে’... হবিগঞ্জের সেই এসআই ক্লোজড বিয়ানীবাজার থেকে নারী নিখোঁজ, থানায় সাধারণ ডায়েরি ঢাকায় মেয়র প্রার্থী সিলেট-৬ আসনের জামাত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন

বিয়ানীবাজারসহ দেশের ৪৬ কূপের গ‍্যাসের খনন কাজ শেষ

বিয়ানীবাজারসহ দেশের ৪৬ কূপের গ‍্যাসের খনন কাজ শেষ

ছবি: সংগৃহীত


দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন কূপ খননের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। গত সাত মাসে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতায় মোট ৩২টি কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

পেট্রোবাংলার হিসাবে, ৩২টি কূপের মধ্যে এসজিএফএলের ১৪টি, বাপেক্সের ১১টি এবং বিজিএফসিএলের সাতটি কূপ রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের কূপগুলোর মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজার, কৈলাশটিলা, রশিদপুর ও সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের বিভিন্ন কূপ। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনিক সরবরাহও বেড়েছে।

 

এসজিএফএলের ১৪টি কূপ হলো বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-২।

পেট্রোবাংলা বলছে, ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাব্যতা ধরা হয়েছিল। তবে হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফ হয়েছে।

তবে উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হলেও সব গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নেওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোবাংলার রিজার্ভার অ্যান্ড ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হিসাবে, সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে তা পুরোপুরি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি গ্যাস সঞ্চালনের অবকাঠামো বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও সাত কূপের কাজ চলছে

২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এগুলো হলো রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, এসব কূপের খননকাজ জানুয়ারি নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। কাজ শেষ হলে কূপগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কূপ থেকে গ্যাস পাওয়ার পর তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

এর বাইরে বর্তমানে ১৯টি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রকল্প চলমান রয়েছে। আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও রয়েছে।

ঘাটতি এখনো বড়

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়লেও দেশের মোট চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান এখনো বড়। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফের মতো।

বর্তমান সরবরাহের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ করছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় তাদের সরবরাহ প্রায় ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে এই পর্যায়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯০০ এমএমসিএফ।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কূপ খনন করে গ্যাস পাওয়ার পর তা দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

শফিকুল আলম বলেন, নতুন গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর সঞ্চালন অবকাঠামোর অভাবে সেই গ্যাস অব্যবহৃত পড়ে থাকা উচিত নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান এখন প্রতিদিন ১ হাজার এমএমসিএফের বেশি।

সিলেটের পাশাপাশি সমুদ্রে অনুসন্ধান

স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করা হয়েছে।

নতুন কূপের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণেও চলছে জরিপ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাবনাময় এলাকায় কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, চলমান সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে সরবরাহে আরও গ্যাস যুক্ত হবে। একই সঙ্গে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই বিপুলসংখ্যক কূপ খননের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। তবে সেই উৎপাদন কাজে লাগাতে কূপ খননের সঙ্গে সমন্বয় করে পাইপলাইন, প্রসেসিং প্ল্যান্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করতে হবে।

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)