ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তা এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এসব রাস্তা দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে গোলাপগঞ্জে ১৮৬ মাইল গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই।
জানাযায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এলজিইডির আওতায় মোট সড়ক রয়েছে ৬৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৮৮ কিলোমিটার রাস্তা পাকা। বাকি ৩০০ কিলোমিটার রাস্তা এখনো কাঁচা। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন শত শত মানুষ।
বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। বেহাল সড়কের কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মজীবী মানুষকেও প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
বাঘা ইউনিয়নে বোরহান উদ্দিন রোড থেকে এখলাছপুর পর্যন্ত রাস্তা, সোনাপুর বাজার থেকে বাঘা মাদ্রাসা ঘাট পর্যন্ত রাস্তা, বাঘা-বইটিকর খেয়াঘাট থেকে লালনগর খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তা, বাঘার বাজার থেকে মাঝের মহল্লা ঈদগাহ রাস্তা, দক্ষিণ বাঘা থেকে তুডুগাঁও পর্যন্ত রাস্তা, গোলাপনগর পশ্চিমগাঁও থেকে কান্দিগাঁও খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তা, উত্তরগাঁও থেকে পূর্বগাঁও খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তা এবং তুডুগাঁও থেকে লালনগর খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা নাজুক।
বাঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম পারভেজ বলেন, ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এসব রাস্তা সংস্কার করা জরুরি।
লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে দেওপাড়া-খেইড়তলা রাস্তা, করগ্রাম-মইনরাটিলা রাস্তা, লক্ষণাবন্দ পূর্বভাগ-মাঝপাড়া রাস্তা, লক্ষণাবন্দ-ভুটিরাপাড়া রাস্তা, ফুলসাইন্দ-খলাভাগি রাস্তা এবং নিজ ফুলসাইন্দ-বাউলিটিলা রাস্তার অবস্থা ভালো নয়।
লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলকুর রহমান বলেন, এসব রাস্তা দ্রুত মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি। রাস্তার কারণে এলাকার মানুষ সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন।
ভাদেশ্বর ইউনিয়নে পূর্বভাগ ভাটাটিকর থেকে দখারপাড়া লিংক রোড, খলাশহর রাস্তা ও দক্ষিণভাগ রোডের অবস্থাও নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবারীবাজার ইউনিয়নে চন্দরপুর থেকে আছিরগঞ্জ রাস্তা, আছিরগঞ্জ থেকে শরীফগঞ্জ রোড, চন্দরপুর থেকে কটলিপাড়া রাস্তা, ঢাকাদক্ষিণ বাইপাস থেকে বিয়ানীবাজার রাস্তা এবং কুশিয়ারা নদীর ডাইক সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে।
বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হপলাল উদ্দিন জানান, এসব সড়কের বেশ কিছু অংশে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
লক্ষীপাশা ইউনিয়নে বইটিকর সিএনজি রোড থেকে শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, কোনাচর মোল্লাবাড়ি থেকে লক্ষীপাশা বাজার পর্যন্ত রাস্তা, বাটুলগঞ্জ মাদ্রাসার সামনে থেকে ২২মোড়া রাস্তা, বাটুলগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে রাখালগঞ্জ বাজার রাস্তা এবং লক্ষীপাশা ডিএম রোড থেকে লক্ষীপাশা মহিলা মাদ্রাসা রাস্তার অবস্থাও নাজুক।
ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে রায়গড় বাবরী মসজিদ রোড, মিশ্রপাড়া রাস্তা, নিশ্চিন্ত দক্ষিণ পাশের রাস্তা, রায়গড় গাজিকুল রাস্তা ও সুনামপুর ঈদগাহ সড়ক নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে কালীকৃষ্ণপুর চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে থেকে দক্ষিণে মহরমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, রাংজিয়ল ইউপি সীমানা থেকে দক্ষিণে খারারপার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা, ইসলামপুর বাজার থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ফজলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, ইসলামপুর খেয়াঘাট থেকে দক্ষিণে বায়তুন-নূর জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা এবং আলফালা একাডেমির সামনে থেকে পশ্চিমে বসন্তপুর-অমরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থাও বেহাল।
বাদেপাশা ইউনিয়নে চন্দ্রপুর থেকে মোল্লার চক পিস পর্যন্ত রাস্তা, বাগলা-কেউটকোনা থেকে রাকুয়ার বাজার পর্যন্ত রাস্তা, মীরের চক ফাইদুলের খামার থেকে বাগলা বাজার টাওয়ার পর্যন্ত রাস্তা এবং ডেপুটি বাজার থেকে হাজিরকোনা হয়ে ভাইয়া-কাঁদিপুর পর্যন্ত রাস্তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসাইন এসব তথ্য জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ইউসুফ হোসেন খান বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এলজিইডির আওতায় মোট ৬৮৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৮ কিলোমিটার পাকা এবং ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। তিনি বলেন, এসব রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: সিলেট ভিউ
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.