মানুষের জীবনে সবচেয়ে সুন্দর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার। আর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো নেককার স্ত্রী। একজন নেক ও সৎগুণের স্ত্রী স্বামীকে দেয় হৃদয়ের প্রশান্তি, জীবনের ভারসাম্য ও আল্লাহর কাছে নৈকট্যের পথ। তাই ইসলাম স্ত্রী নির্বাচনে শুধু সৌন্দর্য বা সম্পদ নয়— তাকওয়া, চরিত্র ও উত্তম গুণাবলীকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। দুনিয়ার সফলতা ও পরকালের কল্যাণ অনেকটাই নির্ভর করে একজন সৎ গুণবর্তী স্ত্রীর ওপর। এ কারণে কুরআন ও হাদিসে ‘সর্বোত্তম গুণের স্ত্রী’ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
ইসলাম এমন নারীকে সর্বোত্তম স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছে— যিনি ধর্মপরায়ণ, চরিত্রবান, শান্ত-স্নিগ্ধ, স্বামীর প্রতি অনুগত এবং স্বামী অনুপস্থিত থাকলেও নিজের ইজ্জত ও স্বামীর সম্পদ রক্ষা করেন। তিনি স্বামীর জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, সন্তানদের প্রথম শিক্ষক, পুরো পরিবারের জান্নাতে যাওয়ার পথপ্রদর্শক।
ইসলাম স্ত্রীকে স্বামীর পোশাক, সঙ্গী, বন্ধু এবং রহমতের উৎস হিসেবে দেখেছে। আর তার শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো তার আল্লাহভীতি ও নেক আমল। কুরআন-হাদিসের বর্ণনায় সেগুণগুলো তুলে ধরা হলো—
১. নেক স্ত্রী আল্লাহর দান
فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ
‘নেক নারীরা হলো সেইসব নারী, যারা অনুগত এবং স্বামী অনুপস্থিত থাকাকালেও আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের মর্যাদা ও স্বামীর সম্পদ রক্ষা করে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৩৪)
২. যে স্ত্রী দুনিয়ার সেরা
...وَلَنِعْمَ الْمِرْأَةُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
‘আর সবচেয়ে উত্তম নারী হলো— নেক ও সৎচরিত্রবান স্ত্রী।’ (মুসনাদুত তায়ালিসি ৭৩৭)
২. ধর্মপরায়ণ স্ত্রী সর্বোত্তম সম্পদ
إِنَّ الدُّنْيَا كُلَّهَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
‘সমগ্ৰ পৃথিবী মানুষের ভোগ্য-বস্তু, আর দুনিয়ার সর্বোত্তম উপভোগ হচ্ছে— নেক ও সৎচরিত্র স্ত্রী।’ (নাসাঈ ৩২৩৫)
৩. শ্রেষ্ঠ স্ত্রী কে?
قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ قَالَ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلَا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ
‘একদিন রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রশ্ন করা হলো— কোন নারী উত্তম? তিনি বললেন— যে নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত স্বামীকে সন্তুষ্ট করে। সে আদেশ করলে তা সম্পন্ন করে, এবং তার বাড়ির ও তার মালের ব্যাপারে যা অপছন্দ করে, সে তার বিরোধিতা করে।’ (নাসাঈ ৩২৩৪)
নবী (সা.) আরও বলতেন—
أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَا اسْتَفَادَ الْمُؤْمِنُ بَعْدَ تَقْوَى اللهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ زَوْجَةٍ صَالِحَةٍ إِنْ أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِنْ أَقْسَمَ عَلَيْهَا أَبَرَّتْهُ وَإِنْ غَابَ عَنْهَا نَصَحَتْهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهِ
‘কোনো মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ্ভীতির পর উত্তম যা লাভ করে তা হলো— পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার হাস্যাজ্জ্বল চেহারা ও প্রফুল্লতা) তাকে আনন্দিত করে এবং সে তাকে শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে। আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও সম্পদের হেফাজত করে।’ (ইবনে মাজাহ ১৮৫৭)
ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সর্বোত্তম স্ত্রী সেই নারী— যিনি ধর্মপরায়ণ, চরিত্রবান, স্বামীর ক্ষেত্রে অনুগত, পরিবার রক্ষা করেন, শান্ত-স্বভাবের এবং পরহেজগার। এমন স্ত্রী পরিবারে রহমত নাজিল করে, স্বামীকে জাহান্নাম থেকে বাঁচায়, সন্তানদের নেক পথে চালায় এবং দুনিয়া-আখিরাতে সফলতা এনে দেয়। এ রকম একজন নেককার স্ত্রী— স্বামীর জন্য দুনিয়া থেকেই জান্নাতের পথচলা শুরু করে।
বৈরাগীবাজার নিউজ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.