আজ বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

 শিরোনাম
আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি রাজকীয় ক্ষমা পেলেন বোর্ডের কর্তা নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বর্জনের আলটিমেটাম খেলোয়াড়দের সিলেটে ‘শীর্ষ ছিনতাইকারী ও ডাকাত’ সজল গ্রেপ্তার বিয়ানীবাজারে বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক শিবির নেতা গোলাপগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা বিয়ানীবাজারে তরল গ্যাসের চরম সংকট কমলগঞ্জে মাছের মেলায় ২৫ কেজি ওজনের বোয়াল গত বছরে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬৪, ১৩২ জনই মোটর সাইকেল আরোহী সিলেটের বিশ্বনাথে ৩ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার বিয়ানীবাজারে পুলিশের অভি/যানে ৬‘শ কেজি ভারতীয় জিরা উদ্ধার- গ্রেপ্তার ২ জন

সিলেটে স্নায়ুর চাপে বিএনপির ৬ প্রার্থী

সিলেটে স্নায়ুর চাপে বিএনপির ৬ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মনোনয়নপত্র বাছাই পর্ব শেষ। এখন চলছে আপিল পর্ব। এ পর্বে এসে প্রচন্ড স্নায়ুর চাপে ভুগছেন সিলেট বিভাগের বিএনপির ৬ প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এরমধ্যে আছেন সিলেট জেলার ২ ও সুনামগঞ্জের ৪ প্রার্থী।

 
 

সিলেট জেলার ২ প্রার্থী হলেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও সিলেট জেলা বিএনপির অন্যতম উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ চৌধুরী।

 

আর সুনামগঞ্জের ৪ প্রার্থী হলেন, সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক ও সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। অপর দুই প্রার্থী হলেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল।

 

এই প্রার্থীরা যেমন নিজেরাই প্রচন্ড স্নায়ুর চাপে ভুগছেন তেমনি তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও দিনে দিনে স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কারণ, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ভোটের মাঠে কে লড়বেন, তা জানতে তাদের এবং ভোটারদেরও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়টা পর্যন্ত। কেন্দ্র থেকে শেষ পর্যন্ত কাকে প্রত্যাহার করতে বলা হবে আর কাকে নির্বাচনে লড়াই করতে বলা হবে- তা ঝুলেই থাকবে শেষ সময়টা পর্যন্ত। আর স্নায়ুর চাপ বা লড়াই এই প্রত্যাহার বা থাকা না থাকা নিয়ে।

 

 

এই ক’দিন আগেও এই ৬ প্রার্থী এবং তাদের কর্মী সমর্থকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কেউ কেউ ভাবছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবেও লড়াই করার। কারণ, মনোনয়ন বঞ্চনা। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় গত ২৭ ডিসেম্বরের পর থেকে। সেদিন জানা যায়, বৃহত্তর সিলেটের এই তিনটি আসনে খেলা জমিয়ে রাখছে বিএনপি হাইকমান্ড। দু’জন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়।

 

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে দীর্ঘদিন থেকে মাঠে তৎপর ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এতে আশাহত ফয়সল চৌধুরী ও তার কর্মী-সমর্থকরা সিদ্ধান্তটি রিভিউর জোরালো আবেদন জানান। তবে শেষ পর্যন্ত ফয়সল চৌধুরীকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। এ অবস্থায় আবারও আশাবাদী হয়ে উঠেন ফয়সল চৌধুরী ও তার কর্মী এবং সমর্থকরা। আর এমরান চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা বিষয়টিকে ‘ব্যাপকআপ’ বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও উভয়পক্ষই নিজেদের প্রার্থীকে চূড়ান্ত প্রার্থী বলে দাবি করছেন, যদিও প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে তেমন একটা উচ্চবাচ্য নেই কোনোপক্ষেই।

 


একই অবস্থা সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা তাহিরপুর জামালগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুর) ও সুনামগঞ্জ-(দিরাই-শাল্লা) আসনে। সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রথম দফায় বিএনপি প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয় আনিসুল হকের নাম। পরে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক কে। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ও তার কর্মী সমর্থকদের পক্ষ থেকে। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত পূণঃবিবেচনার দাবিতে সভা-সমাবেশ শুরু করেন। অবশেষে খবর আসে কামরুলকেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। দিয়েছেনও তিনি এবং বাছাইপর্ব পেরিয়ে এখন স্নায়ুযুদ্ধে লড়ছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কে টিকবেন, কাকে মাঠে থাকতে নির্দেশনা আসবে, প্রচন্ড উত্তেজনা আর চাপ নিয়ে ২০ জানুয়ারির অপেক্ষায়।

 


সুনামগঞ্জ-৩ (দিরাই-শাল্লা) আসনে প্রথম দফাতেই বিএনপর প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল সাবেক সাংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নাম। এ আসনে নির্বাচন করতে তৎপর ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল। শুরুর দিকে তিনি এবং তার কর্মী-সমর্থকরা এই সিদ্ধান্ত পূণঃবিবেচনার দাবি জানিয়ে মাঠ গরম করলেও ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশ হয় বিএনপি হাইকমান্ড থেকে তাকেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনিও মনোনয়নপত্র জমা দেন। যথারীতি প্রচন্ড উত্তেজনা চাপ নিয়ে অপেক্ষায় ২০ জানুয়ারির।

 

পূর্ববর্তী খবর পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬)

পরবর্তী খবর পড়ুন

জসীম উদ্‌দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬)